Mr. Negative – All You Need to Know

 

আপনি আজ সারাদিন কার সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন? আমি সোশ্যাল মিডিয়া বা ভার্চুয়াল লাইফের কথা বলছি না; রিয়েল লাইফে কার সাথে বেশি কথা বলেছেন সে সম্পর্কে বলছি।

আমাকে উত্তর দেয়ার দরকার নেই। নিজে উত্তর খুজে পেয়েছেন কিনা দেখুন।

এবার প্রশ্নটিকে আরেকটু বড় করা যেতে পারে। গত এক মাস আপনি কার সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন? এক বছর? এক যুগ?

খেয়াল করে দেখবেন আপনি যার সাথে বেশি সময় কাটান তার এবং আপনার অনেক কিছুতেই হয়তো মিল আছে। আপনাদের চিন্তা ভাবনা হয়তো অনেক ক্ষেত্রেই একই ভাবে কাজ করে। একই রকম রিয়েকশন করেন। একই ভাবে অন্যের সমালোচনা করেন। আপনাদের সুখের সংজ্ঞাও অনেক ক্ষেত্রে একই রকম হতে পারে। কিছুটা ভিন্ন রকমও হতে পারে তবে অনেক যায়গাতেই একই রকম হবার সম্ভাবনা বেশি। কেননা বলা হয়ে থাকে আমরা যে কজন মানুষের সাথে বেশী সময় কাটাই,আমরা আসলে তাদেরই এভারেজ।

তবে ভিন্ন ভিন্ন মানুষগুলোর সুখ ভিন্ন ভিন্ন রকম। কারো কাছে সুখ হচ্ছে নতুন নতুন গ্যাজেট, কারো কাছে টাকা পয়সা, আবার কারো কাছে প্রিয় মানুষটার হাসি। আবার একই মানুষের সুখ বয়সের সাথে সাথে পালটে যেতে পারে। টিনএজ লাইফে যে ছেলেটার সুখ ছিল নতুন গ্যাজেট, নতুন জিন্স প্যান্ট, বাবা হওয়ার পর হয়তো তার সুখ হয় সন্তানের জন্য নতুন খেলনা কেনা।  

যেহেতু সুখের ধরন পরিবর্তন হয়, তার মানে এটা আপেক্ষিক, এটা পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ চাইলেই আমরা আমাদের সুখ নিজেরাই ডিফাইন করতে পারি। চাইলে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে পারি। আমরা না চাইলেও অনেক কিছু যেমন আমাদের মধ্যে ঢুকে যায়, আবার তেমনি চাইলে অনেক কিছুই আবার বের করা সম্ভব।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা না চাইলেও আমাদের আশেপাশের মানুষ বা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হই। মিডিয়া, টিভিসি, এমনকি আমার এই ব্লগ পোস্টও আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে। আমাদের সহকর্মীরা, বস, ফ্রেন্ডস, ফ্যামিলি মেম্বাররা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে।

প্রফেশনাল লাইফ বা প্রফেশনাল গ্রোথের ক্ষেত্রে আমি দেখেছি দুটি জিনিশ যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক ভাবে করতে পারলে অনেক ভাল কিছু করা সম্ভব, আর করতে না পারলে শুধুই স্ট্রাগলিং।

১) গ্রোথ মাইন্ডসেট তৈরি করা
২) মিঃ নেগেটিভ মানুষগুলোকে এভয়েড করা।

গ্রোথ মাইন্ডসেট তৈরি করা নিয়ে আরেকদিন লিখবো, আজ মূলত লিখছি ২ নং পয়েন্ট নিয়ে।

মিস্টার নেগেটিভঃ
মিস্টার নেগেটিভ আসলে কারা? একে অনেক ভাবেই ডিফাইন করা যায়, আমি সহজ ভাবেই বলছি। আপনি জীবনে কিছু মানুষ পাবেন, যারা প্রতিটি আইডিয়া বা সমাধানের মধ্যেই সমস্যা খুঁজে পায়। তারা কখনই আপনাকে উৎসাহ দিবে না। আপনি যাই করেন, যেভাবেই করেন, সে সবসময় সেখানে সমস্যা খুজে বের করবে।  

এরা আপনার কাছে অন্যজনের বদনাম করবে, এবং সম্ভবত অন্যজনের কাছে আপনার বদনাম। এরা কাউকে এপ্রিশিয়েট করতে পারে না। আপনি তাকে একটা আইডিয়া দিবেন, সে বলবে এমন আর নতুন কী? আপনি আরেকটা সলিউশন বের করবেন, সে বলবে এটাতেও নতুন কিছু নেই। আরেকটা সলিউশন বের করবেন, বলবে, আইডিয়াটা ভাল আছে, কিন্তু এটা সম্ভব না। আরেকটা সলিউশন বের করবেন,বলবে এটাও সম্ভব না।

আসলে তারকাছে আপনার সব সলিউশনের বিপরীতে কোন না কোন সমস্যা থাকবেই যা আপনাকে পজিটিভ এনার্জি না দিয়ে ডিমোটিভেট করবে। তার সাথে চলতে থাকলে একসময় আপনিও মনে করবেন আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না। আপনি হয়তো রুটিন ওয়ার্কের বাইরে কিছু চিন্তা করবেন না। আপনার পসিটিভিটি কমতে থাকবে।

আমি যদি পয়েন্ট আকারে লিখি তাহলে

  • মিস্টার নেগেটিভ আপনার চিন্তা শক্তির সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিতে পারে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনাকে উৎসাহিত না করে ডিমোটিভেট করবে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনার মধ্যে নেগেটিভিটি ইঞ্জেক্ট করবে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনাকে হতাশার বৃত্তে ঘুড়পাক খাওয়াতে থাকবে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনাকে অন্যদের প্রতি হিংসা ঢুকিয়ে দিবে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনাকে সহজ ব্যাপার গুলোকে খুব জটিল ভাবে ভাবতে উৎসাহিত করবে।
  • মিস্টার নেগেটিভ আপনাকে আপনার লাইফের লিডিং রোল থেকে সড়িয়ে দিবে, এবং আপনি ভাবতে থাকবেন আপনার জীবনের সবকিছুর জন্য অন্যরা দায়ী।

এবার আপনি চিন্তা করতে পারেন, কাগজ কলম নিয়ে বসতে পারেন, এবং ভাবতে পারেন আপনার লাইফে এই মিস্টার নেগেটিভ মানুষটি কে বা কারা? যদি আইডেন্টিফাই করতে পারেন, তাহলে ভাবুন তার নেগেটিভিটি কোন পর্যায়ে আছে। ১ থেকে ৫ এর মধ্যে মার্কিং করতে পারেন।
১) হালকা নেগেটিভিটি
৫) খুবই জটিল অবস্থা।

এবার ভাবুন আপনি অন্যের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হন, নাকি অন্যকে প্রভাবিত করতে পারেন। যদি প্রভাবিত করতে পারেন তাহলে নিজেকে মার্কিং করুন।

একই ফরমুলা,
১) টুকটাক প্রভাবিত করতে পারি
২) অনেক ভাল ভাবেই প্রভাবিত করতে পারি

এবার আপনার মার্কিং যদি তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে আপনি মিস্টার নেগেটিভ এর সাথে চলাফেরা করতে পারেন কিছুদিন, এবং দেখতে পারেন আপনি তার চিন্তা ভাবনার কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারেন কিনা। যদি পারেন, তাহলে চালিয়ে যান। না পারলে তার কাছ থেকে যতটুকু দূরে থাকা যায় ততোই মঙ্গল।

আর আপনি যদি অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হন, তাহলে মিস্টার নেগেটিভকে যতোখানি সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। যদি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হয়, তাহলে গাঁ ছাড়া ভাবে মিশুন; যতটুকু না মিশলেই নয়। এবং তার সাথে কথা বলার সময় এটাও মাথায় রাখুন।

আমরা আমদের মূল লক্ষের দিকে যতো বেশি ফোকাস থাকতে পারবো ততো ভাল করতে পারবো। মিস্টার নেগেটিভ সবসময় আপনার ফোকাস নষ্ট করবে তার নেগেটিভিটি দিয়ে। সে সবসময় কিছু না কিছু ঘটাবে যা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য, ফোকাস ধরে রাখার জন্য হুমকিস্বরূপ।

নোটঃ এখানে মিস্টার নেগেটিভ আসলে ছেলে মেয়ে দুই পক্ষকে বুঝিয়েই লিখা হয়েছে, টাইটেলটাকে এট্রাকটিভ রাখার জন্য মিস্টার শব্দটা ব্যাবহার করা হয়েছে।

২০১৯ সালের মার্কেটিং ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে কানেক্টেড থাকুন আমার ফেসবুক গ্রুপে

 

 

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here