সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং রিসোর্স – ইমেজ কন্টেন্ট

social-media-marketing-image-resource

ধরুন আপনি কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করছেন, ল্যাপটপ এ চার্জ দিতে হবে, আবার মোবাইলের চার্জ ও প্রায় শেষ। এছাড়া বড় স্ক্রিনে কাজ করার জন্য ভাল হত যদি একটি মনিটরের সাথে কানেক্ট করা যেত। কিন্তু আপনার সামনে যে ইলেকট্রিক পোর্টটি আছে সেখানে একটি ক্যাবল লাগানোর সকেট আছে।

খুবই সমস্যার একটা বেপার, কিন্তু আপনি জানেন খুব সহজ একটা সমাধান আছে, আর তা হচ্ছে একটি মাল্টিপ্লাগ। একটি মাল্টিপ্লাগ কিনে নিলে হয়তো এই সমস্যার সমাধান মুহুর্তের মধ্যেই হয়ে যাবে।

আমাদের লাইফে প্রতিনিয়ত এমন অনেক সমস্যা থাকে যার সমাধান খুবই সহজ, শুধু একটি ইফেক্টিভ এবং স্মার্ট টুল দরকার হয়। আমরা অনেক সময় সেই সলিউশনটি খুঁজি না, অথবা খুঁজে পাই না। অনেক সময় প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না।

অনলাইন জগতেও বেপারটি এরকমই। প্রতিটি কাজকেই সহজ ভাবে করা যায় যদি ইফেক্টিভ টুল ব্যাবহার করা যায়। আবার ইফেক্টিভ টুলটিকেও সঠিক ভাবে ব্যবহার না করলে ভাল ফলাফল আসবে না। তাই একটি টুল পাবার পর সেখানে সময় ইনভেস্ট করতে হবে, যাতে তার যথাযত সুবিধা নেয়া যায়।

আমরা যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে আছি, আমাদের প্রতিনিয়ত ইমেজ তৈরি করতে হয়। বিশেষ করে অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই একজন ডিজিটাল মার্কেটারের জন্য ফটোশপ অথবা ইলাস্ট্রেটর ব্যাবহার করে ছবি বানানোটা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া অনেক সময় এটি প্রচুর সময় নিয়ে নেয়। আবার ক্ষুদ্র উদ্যক্তাতের ক্ষেত্রে এটা বুঝতেও সমস্যা হয় একটি ইফেক্টিভ ডিজাইন কেমন হওয়া উচিৎ।

তাই আমাদের দরকার এমন কিছু ট্যুল যা সহজেই অল্প এফোর্টে এবং অল্প সময়ে প্রফেশনাল লুকিং ইমেজ তৈরি করে দিবে। যেখানে ইমেজ এডিটিং প্রসেসটি ফটোশপ অথবা ইলাস্ট্রেটরের মত অত জটিল না। বরং একটি ড্রাগ এন্ড ড্রপ ফিচারযুক্ত। এছাড়া হাই কোয়ালিটি প্রি ক্রিয়েটেড টেম্পলেট ডিজাইন করা আছে, যেখানে চাইলেই ইনফরমেশন গুলো রিপ্লেস করেই চমৎকার ডিজাইন বানিয়ে ফেলা যায়।

আজকে মূলত এই ট্যুল গুলো নিয়েই লিখবো:

১) ক্যানভাঃ

সবচাইতে বেস্ট টুল বলতে পারেন। খুবই সহজে তাদের প্রফেশনাল টেম্পলেট গুলো ব্যাবহার করে ৫-১০ মিনিটে চমৎকার ইমেজ তৈরি করে ফেলা যায়। আইকন হতে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড, শেপ, ফন্ট সবকিছুর চমৎকার ভাণ্ডার রয়েছে। ফ্রী মেম্বারশিপে কিছুটা লিমিটেশন থাকে, তবে যারা একটু সময় দিবে তারা এই ফ্রী মেটেরিয়াল গুলো দিয়েই আসলে তাদের দরকারি কাজ করে ফেলতে পারবে, শুধু কিছুটা ক্রিয়েটিভিটি এপ্লাই করতে হবে। আর জানতে হবে কপি রাইট ফ্রী হাই কোয়ালিটির ছবি কোথা থেকে পাওয়া যায়। এই পোস্টে আমি কিছু কপিরাইট ফ্রী ইমেইজ সোর্স এর লিঙ্ক ও দিয়েছি।

ওয়েবসাইটঃ canva.com

২) ক্রেলোঃ

প্রায় ক্যানভা এর কার্বন কপি। একই রকম ইউজার ইন্টারফেস, ডিজাইন করার প্রসেসগুলাও একইরকম। তাই এটাকে ক্যানভা এর সাথে অথবা ক্যানভা এর অল্টারনেট হিসেবে ব্যাবহার করা যায়। আমি ইদানিং ক্রেলো বেশি ব্যাবহার করছি কারন আমি এটির লাইফ টাইম ডিল কিনেছিলাম। যার কারনে আমি তাদের সব প্রিমিমিয়াম কন্টেন্ট ফ্রী ব্যাবহার করতে পারি।

ওয়েবসাইটঃ crello.com

৩) থাম্বনাইল ব্লাসটারঃ

এটি একটি পেইড টুল। ৩৭ ডলার লাইফ টাইম ডিল। এটি মূলত ইউটিউব থাম্বনেইল তৈরি করার জন্য, কিন্তু এটি ব্যাবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্ট ও তৈরি করা যাবে। তাদের টেমপ্লেইট এর সংখ্যা কম, কিন্তু একটু ক্রিয়েটিভিটি এপ্লাই করলে অনেক ভ্যারিয়েশন তৈরি করা যাবে।

ওয়েবসাইটঃ thumbnailblaster.com

৪) রিমুভ ডট বিজি

এটি মূলত যে কোন ছবি থেকে বেকগ্রাউন্ড রিমুভ করার জন্য ব্যাবহার করা হয়। আপনার ছবির যদি রেসুলেশন ভাল থাকে, তাহলে খুব সহজেই চমৎকার ভাবে তাদের এ আই বেজড ট্যুল ব্যাকগ্রাউন্ড রিমূভ করে দিবে। ১০-২০ সেকেন্ডেই আসলে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ হয়ে যায়। তবে অবশ্যই হাই রেসলুশন ইমেজ দিতে হবে।

ওয়েবসাইটঃ www.remove.bg

ফ্রী স্টক ইমেইজ সোর্সঃ

পিক্সাবেঃ

পিক্সাবে তে হাই কোয়ালিটি রয়ালিটি ফ্রী ইমেজ এবং ভিডিও পাওয়া যায় এবং তা আনলিমিটেড ডাউনলোড করা যায়। বিভিন্ন সাইজে। একাউন্ট খুলে এবং না খুলে দুই ভাবেই এখান থেকে ছবি ডাউনলোড করা যায়।

এছারাও আপনি নিচের দুইটা সাইট ব্যাবহার করতে পারেন। এখানেও প্রচুর হাই কোয়ালিটি রয়ালিটি ফ্রী ইমেজ পাওয়া যায়।

তারমানে আমাদের হাতে এখন আছে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার ট্যুল, রয়ালিটি ফ্রী ছবির ভান্ডার এবং একাধিক ট্যুল যা আমাকে কনভার্শন ফ্রেন্ডলি ছবি ডিজাইন করতে দিচ্ছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে এক এক সোশ্যাল মিডিয়াতে এক এক রকমের ইমেজ সাইজ ডিসাইড করা থাকে, আবার একি সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অংশের জন্য বিভিন্ন ইমেজ সাইজ থাকে। যেমন ফেসবুকে কাভার ফটো এর সাইজ আর প্রোফাইল এর ছবির সাইজ এক নয়। আবার গ্রুপের কাভার ফটো এবং পেজের কাভার ফটো এর সাইজ এক রকম নয়। নিচে আমি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আপ টু ডেট ইমেজ সাইজ শেয়ার করছি।

বিভিন্ন ধরনের ইমেজ সাইজঃ

ফেসবুকঃ

  • প্রোফাইল পিকচারঃ ১৮০ x ১৮০
  • কাভার ফটোঃ ৮২০ x ৪৬২
  • লিঙ্ক ইমেজঃ ১২০০ x ৬৩০
  • ইমেজ পোসসঃ ১২০০ x ৬৩০
  • ইভেন্ট ইমেজঃ ১৯২০ x ১০৮০
  • ভিডিওঃ ১২৮০ x ৭২০
  • সর্বোচ্চ ভিডিও এর দৈর্ঘ্য: ২৪০ মিনিট
  • এড সাইজঃ ১২০০ x ৬২৮
  • ভিডিও এড সাইজঃ ১২৮০ x ৭২০
  • স্টোরি এড সাইজঃ ১০৮০ x ১৯২০
  • গ্রূপ কভার ইমেজ সাইজঃ ১৬৪০ x ৯২২
  • মেসেঞ্জার ইমেজ  এড সাইজঃ ১২০০ x ৬২৮

ইন্সটাগ্রামঃ

  • প্রোফাইল পিকচারঃ ১১০ x ১১০
  • ফোটোঃ ১০৮০ x ১০৮০ (স্কয়ার), ১০৮০ x ৫৬৬ (লেন্ডস্পেস), ১০৮০ x ১৩৫০ (পরট্রেইট)
  • স্টোরিজঃ ১০৮০ x ১৯২০
  • মিনিমাম ভিডিওঃ ৬০০ x ৬০০ (স্কয়ার), ৬০০ x ৩১৫(লেন্ডস্পেস), ৬০০ x ৭৫০ (পরট্রেইট), ৬০০ x ৭০০ (কারসউল ভিডিও ডায়মেনশন)
  • ম্যাক্সিমাম ভিডিও লেন্থঃ ৬০ সেকেন্ডস
  • মিনিমাম  ইমেজ এড সাইজ: ৫০০ ্পিক্সেলস ওয়াইড
  • ফোটো থাম্বনেইলসঃ ১৬১ x ১৬১
  • এড সাইজঃ ১০৮০ x ৫৬৬ পিক্সেলস (লেন্ডস্পেস), ১০৮০ x ১০৮০ পিক্সেলস (স্কয়ার)
  • আইজীটি ভিডিওঃ ১০৮০ x ১৯২০

টুইটারঃ

  • প্রোফাইল পিকচারঃ ৪০০ x ৪০০
  • হেডারঃ ১৫০০ x ৫০০
  • পোস্টঃ ১০২৪ x ৫১২
  • কার্ডঃ ১২০০ x ৬২৮
  • ভিডিওঃ ৭২০ x ৭২০ (স্কয়ার), ১২৮০ x ৭২০ (লেন্ডস্পেস), ৭২০ x ১২৮০ (পরট্রেইট)
  • ম্যাক্সিমাম ভিডিও লেন্থঃ ১৪০ সেকেন্ডস
  • এড সাইজ (ইমেজ)৮০০ x ৪২৮
  • এড সাইজঃ (ভিডিও): ৭২০ x ৭২০ (স্কয়ার), ১২৮০ x ৭২০ (লেন্ডস্পেস), ৭২০ x ১২৮০ (পরট্রেইট)

লিঙ্কডইনঃ

  • কম্পানি লোগোঃ ৩০০ x ৩০০
  • কভার ফোটোঃ ১৫৩৬ x ৭৬৮
  • ডায়নামিক এডসঃ ১০০ x ১০০ (কম্পানি লোগো)
  • স্পন্সারড কনটেন্ট ইমেজঃ ১২০০ x ৬২৭
  • হিরো ইমেজঃ ১১২৮ x ৩৭৬
  • বিজনেস ব্যনারঃ ৬৪৬ x ২২০

লিঙ্কডইন পেজঃ

  • প্রোফাইল পিকচারঃ ৪০০ x ৪০০
  • বাকগ্রাওউন্ডফটোঃ ১৫৮৪ x ৩৯৬
  • পোস্ট ইমেজঃ ১২০০ x ১২০০ (ডেস্কটপ) ১২০০ x ৬২৮ (মোবাইল)
  • লিঙ্ক পোস্টঃ ১২০০ x ৬২৮
  • ভিডিওঃ ২৫৬ x ১৪৪ (মিনিমাম) থেকে ৪০৯৬ x ২৩০৪ (মাক্সিমাম)
  • মাক্সিমাম ভিডিও লেন্থঃ ১০ মিনিটস

ইউটিউবঃ

  • চ্যানেল কভারঃ ২৫৬০ x ১৪৪০ পিক্সেলস (ডেস্কটপ) এবং ১৫৪৬ x ৪২৩ পিক্সেলস (স্মারটফোন)
  • ডিস্প্লে এডঃ ৩০০ x ২৫০
  • অভারলে এডসঃ ৪৮০ x ৬০
  • কম্পানিওন ব্যনার এডসঃ ৩০০ x ৬০ পিক্সেলস
  • স্কিপেবেল ভিডিও এডস লেন্থঃ ৬ – ২০ সেকেন্ডস
  • নন স্কিপেবেল ভিডিও এডস লেন্থঃ ১২ সেকেন্ডস থেকে ৩ মিনিটস (৩০ সেকেন্ডস ইজ রিকমেন্ডেড)
  • বাম্পার ভিডিও এডস লেন্থঃ ৬ সেকেন্ডস
  • স্ন্যান্ডার্ড ভিডিওঃ ১২৮০ x ৭৬০ পিক্সেল

পিন্টারেস্টঃ

  • প্রোফাইল পিকচারঃ ১৬৫ x ১৬৫
  • বোর্ড ডিস্প্লে ইমেজঃ ২২২ x ১৫০
  • স্ন্যান্ডার্ড পিনঃ ভার্টিকেল ইমেজ ১০০০ x ১৫০০
  • ভিডিও স্পেসেসঃ স্কয়ার (১ঃ১) অথবা ভার্টিকেল (২ঃ৩, ৯ঃ১৬) লেন্থঃ মিনিমাম ৪ সেকেন্ডস,মাক্সিমাম ১৫ মিনিটস
  • প্রোমটেড ভিডিওঃ স্কয়ার (১ঃ১) অথবা ওয়াইডস্ক্রিন (১৬ঃ৯) লেন্থঃ মিনিমাম ৪ সেকেন্ডস, মাক্সিমাম ১৫ মিনিটস
  • প্রোমোটেড কারসউলসঃ ২-৫ ইমেজ পার কারসউল,এস্পেক্ট রেশিওঃ ১ঃ১ অথবা ২ঃ৩

টিকটকঃ

  • টিক্টকভিডিও লেন্থঃ ১০৮০ x ১৯২০, মাক্সিমাম ১৫ সেকেন্ডস রিকমেন্ডেড.
  • টিক্টক প্রোফাইল ফোটো ২০০ x ২০০

মনে রাখতে হবে, ট্যুল গুলোর সাথে সাথে আমাদের নিজেদের কিছু ডিজাইন সেন্স ডেভেলপ করতে হবে, খেয়াল করতে হবে অন্যরা কি করছে? কোন ডিজাইন গুলো এটেনশন গ্র্যাব করছে। এবং সেই আইডিয়া নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। কিছুটা লেগে থাকতে হবে। তাহলেই এই ট্যুল গুলো দিয়ে আমরা সর্বাধিক এডভান্টেইজ নিতে পারবো।

যদি আমার ফেসবুক গ্রুপে জয়েন না করে থাকেন, তাহলে এখান থেকে জয়েন করতে পারেন

আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর ফ্রী কোর্স করতে এখানে ক্লিক করুন

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here