fbpx

গুগলের নতুন আপডেটে আপনার করনীয়

Google Panda২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত গুগলের এলগরিদম আপডেট হয়েছে প্রায় ৫৭ বার। কিছু ছোট ছোট আপডেট ছিল যা এসইও প্রফেশনালদের মাঝে তেমন বড় প্রভাব না ফেললেও বড় বড় আপডেট গুলো অনেক প্রভাব ফেলেছে। অনেক বড় বড় ওয়েব সাইট তাদের র‍্যাঙ্ক হারিয়েছে। একজন এসইও প্রফেশনাল এর জন্য ছোট বড় সব আপডেটই গুরুত্তপুর্ন। আপডেটের ফলে যেমন অনেক ওয়েব সাইট তাদের ব্যাবসা হারিয়েছে তেমনি অনেক এসইও প্রফেশনালদেরও কপাল এবং কেরিয়ার পুড়েছে। বিশেষ করে পেংগুইন আপডেট এর পর বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের অনেক এসইও প্রফেশনাল এর কেরিয়ার প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলা যায়।

তাই গুগলের প্রতিটি আপডেট এসইও প্রফেশনালদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে থাকে – কারো জন্য ভাল, কারো জন্য একটু খারাপ। তাই প্রতিটি আপডেটই চ্যালেঞ্জিং, প্রতিটি আপডেট এর পরেই কাজের ধরনে কিছু না কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। আর আমরা অনেক সময়ই বুঝে পাই না, গুগলের নতুন আপডেট আসার পরে অথবা আসার পুর্বে কি করা উচিত। এই বিষয়ের উপর একটা গাইডলাইন দেয়ার উদ্যেশ্যেই আজ লিখতে বসা।

লিঙ্ক বিল্ডিং কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করা উচিত

গুগলের দুটি বড় আপডেট যা এসইও তে বেপক প্রাধান্য বিস্তার করেছে  তার মধ্যে একটা হচ্ছে পেঙ্গুইন এবং অন্যটি পান্ডা। পান্ডা মূলত ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এর উপর কাজ করে, আর পেঙ্গুইন করে লিঙ্ক বিল্ডিং এর উপর। তাই যখনই কোন নতুন আপডেট আসবে সবার প্রথমে যেটা করা উচিত সেটা হচ্ছে নতুন করে লিঙ্ক বিল্ডিং না করা, এমনকি কন্টেন্ট কুয়ালিটিতেও বিশেষ এবং আলাদা ভাবে গুরুত্ব দেয়া। কারন আপনি যদি সঠিক পথে থাকেন তাহলে আপডেট এর পর আপনার রেঙ্ক আরো বাড়বে, তাই কিছু সময় লিঙ্ক বিল্ডিংবন্ধ রাখলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি ভুল পথে থাকেন, তাহলে আপডেট এর পর আপনার রেঙ্কিং কমবে, তাই এসময়ে যদি আরো ভুল লিঙ্ক বিল্ডিং করেন তাহলে আপনার ক্ষতির মাত্রাটা অনেক বেড়ে যাবে। তাই সবার প্রথমেই লিঙ্ক বিল্ডিং বন্ধ করুন এবং আপডেট এর পরবর্তি করনীয় নিয়ে রিসার্চ করুন।

কিছু ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ বুলানো

আপডেট সম্পর্কে বিস্তারিত করনীয়, মার্কেট গুরুদের মতামত কি, তারা কিভাবে কাজ করছে এই তথ্যগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্যগুলোকে পর্যবেক্ষন করলে আপনি মোটামুটি সব ধারনা পেয়ে  যাবেন আপনার সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে। তাই এই সময়টাতে যত পারেন তত পড়াশুনা করুন। প্রয়োজনে পুরানো আপডেটগুলো নিয়েও পড়ুন, গুগলের গাইডলাইন পড়ুন, বিভিন্ন ফোরামে একটিভ থাকুন। নিচে আমি কিছু গুরুত্তপুর্ন লিঙ্ক দিচ্ছি সক্রিয় থাকার জন্য।

এসইও ব্লগঃ

ফোরামঃ

বাংলাদেশি ফেসবুক গ্রুপঃ

লিংকডইনঃ

লিঙ্ক প্রোফাইল এবং কন্টেন্ট কোয়ালিটি পুনরায় পরিদর্শন করা

Quality Contentযেহেতু মুল দুটি আপডেটই হচ্ছে কন্টেন্ট কোয়ালিটি আর লিঙ্ক প্রোফাইল এর উপর, তাই যেকোন আপডেট এর সাথে এই ২ টা অংশের সম্পর্ক সব চাইতে বেশি। তাই আমারা এই দুটি যায়গাতে পুনরায় চোখ বুলাতে পারি। কন্টেন্ট কোয়ালিটি চেক করার জন্য আমরা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিতে পারি। একই ভাবে লিঙ্ক প্রোফাইল চেক করার জন্য কিছু ফ্রি এবং পেইড টুলস রয়েছে তাদের সাহায্য নিতে পারি। এছাড়াও  গুগল ওয়েবমাস্টার টুল থেকে আমরা প্রায় সব ধরনের এনালাইটিকাল ডাটা পেয়ে যাব, এমনকি ব্যাকলিংক এর লিষ্টটিও।  ব্যাঙ্কলিংক এর লিষ্টটি ডাউনলোড করে ম্যানুয়ালি তাদের কুয়ালিটি চেক করতে পারেন, এছাড়াও এঙ্কর-টেক্সট ভেরিয়েশন চেক করার জন্য ম্যাজেস্টিক এসইও টুলটি ব্যাবহার করতে পারেন। ব্যাঙ্কলিঙ্ক এর লিষ্ট কালেক্ট করার জন্য এইচরেফস (ahrefs) এবং ব্যাকলিংক ওয়াচ,  এই দুইটি টুলও ব্যাবহার করা যায়।

ওয়েবমাস্টার টুলস এবং এনালাইটিক টুল এ নিয়মিত চোখ বুলানো

কিছু কিছু কম্পেটিটর রয়েছে যাদের এসইও স্ট্রেটেজি এর একটা অংশ হচ্ছে কম্পেটিটর এর জন্য বাজে এবং স্পামি লিঙ্ক বিল্ড করা, যেন তার কম্পেটিটর এসইর‍্যাঙ্ক এবং অথরিটি দুটিই হারায় (নেগেটিভ এসইও)। এছাড়াও গুগলের চোখে যদি কোন কিছু অসংগতিপুর্ন মনে হয় তাহলে তারা ওয়েবমাস্টারকে মেইল করে এবং ওয়েবমাস্টার টুল এ তার নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। তাই একজন এসইও প্রফেশনাল এর উচিত সবসময় ওয়েবমাস্টার টুল এবং এনালাইটিক এ নিয়মিত চোখ বুলানো, যাতে অসংগতিপুর্ন কিছু দেখলে দ্রুত তার উপর ব্যাবস্থা নেয়া যায়।

প্রয়োজনিয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা

বিভিন্ন ব্লগে ঘুড়লেন নতুন আপডেট এবং করনীয় সম্পর্কে জানলেন, লিঙ্ক প্রোফাইল অডিট করলেন, ওয়েবমাস্টার এবং এনালাইটিক এ ঢু মারছেন নিয়মিত কিন্তু কোন দরকারি তথ্য লিপিবন্ধ করলেন না, তাহলে আপনি অনেক কিছু হারাতে যাচ্ছেন। কারন অনেক কিছুই পড়ছেন, দেখছেন কিন্তু সব আপনার মনে থাকবে না। মনে না থাকার সমস্যাটা যদিও সবারই কম বেশি আছে তবে এ সমস্যাটি অনলাইন প্রফেশনালদের একটু বেশি হয়। তাই দরকারি তথ্যগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখুন।

টু ডু লিষ্ট তৈরি করা এবং তা সম্পন্য করা

লিপিবদ্ধ করার পরের ধাপটি হচ্ছে আপনার বর্তমান এসইও ক্যাম্পেইন এর কোথাও যদি কোন পরিবর্তন এর দরকার হয় আপডেটের পর নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য তাহলে তার জন্য একটা টু ডু লিষ্ট তৈরি করে ফেলুন। যেমন পরবর্তি পেঙ্গুইন আপডেট এর জন্য এখন কি-ওয়ার্ড রিচ এঙ্করটেক্সট এর হার যতটা সম্ভব ততটাই কমানো উচিত। আপনি আপনার বর্তমান ক্যম্পেইনের এঙ্করটেক্সট এর পারসেন্টেজ বা হার দেখে নিন, বেশি হয়ে থাকলে যেখানে যেখানে কমানো সম্ভব কমিয়ে নিতে পারেন। স্পামি লিঙ্ক গুলো রিমুভ করার চেষ্টা করুন। যেহেতু এই কাজ গুলা আপনি চাইলেও একদিনে শেষ করা যাবে না, তাই যাতে কোন রকম ভুল হয়ে না যায়, তাই একটা টু ডু লিষ্ট তৈরি করে তা অনুসরন করা যায়।

আরো অনেক কিছুই হয়ত করার আছে, কিন্তু আমি মুলতো এই কাজ গুলোই করি। লিখাটি যদি আপনাদের কোন উপকারে আসে তাহলে কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাবেন, এতে করে আমি আরো বেশি অনুপ্রানিত হব। আর কোন জিজ্ঞাসা অথবা সাজেশন থাকলেও আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

আর আপনি যদি নতুন এসইও প্রফেশনাল হয়ে থাকেন এবং কনফিউসড থাকেন কিভাবে আপনার কেরিয়ার শুরু করবেন তাহলে দেখে নিতে পারেন এই ভিডিওটি