ব্রেকফাস্ট মিটিং এর তিন উপকারিতা

Breakfast Meeting

প্রতিটা মানুষ ঘুম থেকে উঠার পর যেটুকো এনার্জি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারে, দিন গড়ানোর সাথে সাথে সেই এনার্জি লেভেল কমতে থাকে। নানাবিধ কাজে এংগেইজমেন্ট বাড়তে থাকে, যার ফলে নির্দিষ্ট কোন একটা বিষয়ের উপর মনোযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। কম বেশি সবার ক্ষেত্রেই এটা সত্য।

আবার প্রফেশনাল লাইফে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা রকমের মিটিং করতে হয়। কখনো বা প্রসপেক্ট এর সাথে, কখনো পার্টনারের সাথে, আবার কখনো টিমমেটদের সাথে। কখনো ছোটখাট বিষয় নিয়ে ছোটখাটো মিটিং, কখনো কোন বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লম্বা মিটিং।

ব্রেকফাস্ট মিটিং এর আইডিয়াটি আমার মাথায় প্রথম ঢুকিয়েছিলেন BITM এর চিফ কোঅর্ডিনেটর তালুকদার মোহাম্মদ সাব্বির। এর পর থেকে আমার মাথায় পাকাপোক্ত ভাবে ব্রেকফাস্ট মিটিং এর ব্যাপারটি ঢুকে গেছে।

আমি নিজের অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিটিংও অফিসের ভেতর না করে বাইরে কোথাও ব্রেকফাস্ট করতে করতে শেষ করেছি। কিছুটা খরচাপাতি লাগলেও আমার কাছে এটাকে খুবই প্রোডাক্টিভ মনে হয়েছে।
ব্রেকফাস্ট মিটিং নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যই এই পোস্টটি লিখলাম।

১) সময় বাচানো যায়ঃ

যেহেতু আমাদের বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই অফিস শুরু হয় সকাল ৯/১০ টায়, তার মানে আমরা যদি আমাদের মিটিং সকাল ৭ঃ৩০-৮ঃ০০ টার মধ্যে রাখি, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অফিস শুরু হবার আগেই আমাদের মিটিং শেষ করে অফিসে জয়েন করতে পারা যাবে। বড়জোড় অফিস আওয়ার থেকে ঘন্টাখানেক সময় অতিরিক্ত লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে এমন কোন ভেনু সিলেক্ট করা উচিৎ যেটা অফিস থেকে খুব একটা দূরে নয়।

২) এনার্জি ইউটিলাইজ করাঃ

আমি শুরুতেই লিখেছিলাম, ঘুম থেকে উঠার পর আমাদের এনার্জি লেভেল ফুল থাকে; মাথা ঠান্ডা থাকে। তাই এসময় মিটিং করতে পারলে এটাকে বেশি কার্যকর করা সম্ভব। ডিসিশন ফ্যাটিগ বলে একটা কথা আছে। মানুষের সারাদিনের মধ্যে এমন কিছু সময় থাকে যে সময় সে সবচাইতে ভাল পার্ফরমেন্স করতে পারে, আর বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা ঘুম থেকে উঠার ২-৩ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। তারপর তার ব্রেইন টায়ার্ড হতে থাকে। তখন আর ডিসিশান নেওয়া যায় না বা নিলেও ডিসিশনে ভুল হতে পারে।

৩) মিটিং এনভায়রমেন্ট পরিবর্তন হবার কারনে এক ধরনের ইন্সপায়রেশন কাজ করেঃ

আমরা একই টেবিলে, একই ডেস্কের সামনে থাকতে থাকতে অনেক সময় টায়ার্ড হয়ে যাই। তাই হয়তো সব কথাই অফিসের মিটিং রুমে একরকম শুনায়। তাই যায়গা পরিবর্তন করলে মিটিং আরও বেশি কার্যকরি করার সুযোগ থাকে। সবার মধ্যে এক ধরনের ভাল লাগা কাজ করে এবং একটু স্পেশাল মনে হয়। ফলে সবাই একটু বেশী মনযোগী থাকে যা মিটিং থেকে প্রাপ্ত রিটার্ন বাড়িয়ে দেয়। ব্রেকফাস্ট মিটিং এর ক্ষেত্রে বেটার অপশন হচ্ছে এমন লোকেশন সিলেক্ট করা যার পরিবেশটা একটু নিড়িবিলি। যাতে একটু বেশি সময় নিয়ে বসা যায়, আমাদের আইটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য ফ্রী ওয়াইফাই এবং ল্যাপটপ চার্জের ব্যাবস্থা থাকলে ভাল।

Breakfast Meeting

আমি আমার বেশির ভাগ মিটিং গ্লোরিয়া জিন্সে করে থাকি, কারন এটা সকাল বেলা অনেকটাই নিরিবিলি থাকে। ওয়াইফাই এবং ল্যাপটপ চার্জ দেয়ার ব্যাবস্থা আছে। এছাড়াও তাদের খাবারের মেনুটা একটু ডিফরেন্ট থাকার কারনেও মিটিং এর পরিবেশটা একটু ভিন্ন লাগে। তবে তুলনা মুলক ভাবে এটা একটু এক্সপেনসিভ। আপনি চাইলেই আপনার এলাকার আশে পাশে আপনার বাজেটের মধ্যে একটি রেস্টুরেন্ট, কফি শপ খুজে পেতে পারেন।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here