fbpx

এসইও ফ্রিল্যান্সার দের পরবর্তী সম্ভাব্য ৬ টি ক্ষেত্র

SEOআপনি যদি কোন মার্কেট এ দোকান কিনতে চান সবচাইতে বেশী দাম দিয়ে আপনাকে যে দোকান গুলো কিনতে হবে তা হচ্ছে রাস্তার পাশের দোকান, গেইট দিয়ে ঢুকার পরপর’ই যেই দোকান গুলো আছে সেই দোকান গুলো। কারন এই দোকান গুলোতে ক্রেতা বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা সব চাইতে বেশি, এবং এই দোকান গুলোকে খুজে পাওয়ার সম্ভাবনাও সব চাইতে বেশি। তারমানে আপনার ব্যাবসার লাভ হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। ঠিক একি ভাবে যখন আপনি অনলাইনে ব্যাবসা করবেন তখন যদি সার্চ ইঞ্জিন রেসাল্ট এর প্রথম দিকে থাকতে পারেন, তাহলে আপনার ক্রেতা বেশি পাওয়ার সম্ভাবনাও যেমন বাড়বে তেমনি আপনার ব্যাবসার লাভ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। আর এই কারনেই সবাই সার্চ ইঞ্জিন এর শুরুর দিকে থাকতে চায়, আর তাই তারা এই ক্ষেত্রটিতে অর্থ বিনিয়োগ করতেও কার্পন্য করে না। তারমানে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এই সেক্টর টা যেমন চ্যালেঞ্জিং তেমনি সম্ভাবনাময়। আর এই কারনে আমাদের দেশে অনেক এসইও ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন প্রফেশনালও তৈরী হচ্ছে।

মজ এর হিসেব মোতাবেক শুধু আমেরিকাতেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার রয়েছে ৩৬৩,৮৫৭ জন। আর পুরো পৃথিবীতে এই সংখ্যা ১.৭ গুন বেশি। এই বিরাট অংকের প্রফেশনাল দের মধ্যে একটা বিরাট সংখ্যা রয়েছে যারা কিনা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেই কাজ করে থাকেন বিভিন্য মার্কেটপ্লেস গুলোতে অথবা ফোরাম এ। এদের মধ্যে কেউ রয়েছেন কন্সাল্টেন্ট, কেউ বা লিঙ্ক বিল্ডার, আবার কেউ কোন নির্দিষ্ট একটা অংশতেই কাজ করছেন। এসইও দিয়ে সার্চ দেয়ার পর প্রথম সারির দুইটা মার্কেটপ্লেস এ যে তথ্য পাওয়া গেল তার হিসেব মোতাবেক এই সেক্টর টাতে কাজ করছে এমন মানুষের সংখ্যা

ওডেস্ক = ১১৭,৯৮৮

ইল্যান্স = ১৪,৪২১

মুল সংখ্যা বেশি অথবা কম হতে পারে।

সংখ্যা যেটাই হোক না কেন, আমিও তাদের মধ্যে একজন। আমি আমার কেরিয়ার শুরু করেছিলাম একজন ফুলটাইম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কিন্তু বর্তমানে কাজ করছি পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। আমার আজকের পোষ্ট মুলত এসইও ফ্রিল্যান্সার দের জন্য। একজন এসইও ফ্রিল্যান্সার কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর বাইরেও তার কেরিয়ার শুরু করতে পারে।

যেহেতু একজন এসইও ফ্রিল্যান্সার এসইও এবং মার্কেটিং সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন, তাই বাকি অনেকের চাইতেই তার জন্য নতুন ব্যাবসা শুরু এবং পরিচলনা করাটা তুলনা মুলক ভাবে কিছুটা সহজ। কেননা সে ইতিমধ্যেই জানে কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিসিটর আনতে হবে। তার যেটা দরকার নতুন ব্যাবসা অথবা উপার্জন করার মাধ্যমটা কে গুছিয়ে শুরু করা। নিচে আমি বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা লিখছি যা এসইও ফ্রিল্যান্সার দের জন্য শুরু করাটা তুলনামুলক ভাবে সহজ হবে।

এসইও কম্পানি শুরু করা

যেকোন ক্ষেত্রেই অগ্রগতির সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে সেই ক্ষেত্রের মধ্যে থেকেই ব্যাবসাটাকে বড় করা। একজন ফ্রিল্যান্সারের যদি ৫ টা প্রজেক্ট এ কাজ করার সক্ষ্যমতা থাকে, সে সহজেই নতুন কিছু ফ্রিল্যান্সার নিয়ে অথবা তৈরি করে তার প্রজেক্ট সংখ্যা বৃদ্ধি করে নিতে পারে। এভাবে তাদের প্রজেক্ট এর সংখ্যাও যেমন বৃদ্ধি পাবে একই ভাবে বড় বড় প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার সাহস এবং সামর্থ দুটোই বৃদ্ধি পাবে। এভাবে যেমন তার প্রতিষ্ঠান বড় হবে, তেমনি কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে, নতুন নতুন কর্ম সংস্থান এর সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি ফ্রিল্যান্সিং করে ক্যারিয়ার শুরু করা যায় কিন্তু প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারের এর চাইতে বড় স্বপ্ন থাকা উচিত। কিভাবে আমি ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা হলাম তার উপর করা আমার একটি প্রেসেন্টেশন রয়েছে স্লাইডশেয়ার এ। দেখতে হলে আমার স্লাইড শেয়ার এর চ্যানেল থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

টুল তৈরি করুন

অনলাইনে ব্যাবসার পরিচালনা হতে শুরু করে মার্কেটিং পর্যন্ত প্রতিটা ধাপ এই আপনাকে কোন না কোন টুল এর উপর নির্ভর করতে হবে। যা আপনার সম্পূর্ণ কার্যকলাপ হতে সফলতা পর্যন্ত বিভিন্ন অধ্যায়ে আপনাকে সহায়তা করবে। আর আপনি যদি একটা ব্যাবসার মডেল নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে একটি ব্যবসার মূল যে জায়গা গুলোতে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়, পন্য উৎপাদন এবং মার্কেটিং হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম। যেহেতু আপনি এসইও ফ্রিল্যান্সার, সেহেতু আপনার মার্কেটিং সেক্টর এর অর্থ বিনিয়োগ এর অতিরিক্ত চাপ টা কম থাকবে। আপনার মুল খরচ যাবে টুল ডেভেলপের এর পিছনে। তাই চাইলে আপনি কোন ডেভেলপার এর সাথে পার্টনারশিপ এও ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। আমি একটা ব্যানার মেকার টুল নিয়ে কাজ করেছি চাইলে আপনারা সেইটা দেখে আসতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

এটা সবচাইতে কার্যকরি উপায় বলতে পারেন। কারন এই ক্ষেত্রে আপনাকে পন্য তৈরি নিয়ে ভাবতে হবে না। অর্থাৎ কোন অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। অন্যের তৈরি করা পন্য বিক্রি করে দিন। তারা আপনাকে একটা পারসেন্টেজ দিবে কমিশন হিসেব। অনলাইনের অনেক প্রফেশনাল মূলত এফিলিয়েট মার্কেটকেই তাদের মূল উপার্জনের উৎস হিসেবে ব্যাবহার করছে। আপনি মার্কেটপ্লেস এ বিভিন্ন  ক্লায়েন্ট এর যেসব সাইট গুলো নিয়ে কাজ করছেন, তার একটা বিরাট অংশও কিন্তু এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে, এবং আপনি তার সেই সাইট এর কাজই করছেন। তাহলে নিজের একটা সাইট হলে ক্ষতি কি?  এ ক্ষেত্রে আপনাকে যে ব্যাপার গুলোর উপরে বেশি জোর দিতে হবে তা হচ্ছে পন্য নির্বাচন। তারপর ওয়েব সাইট তৈরি এবং তার প্রমোশন এই কাজ গুলোতো আছেই। এই বিষয়টির উপর পরবর্তিতে একটা পুর্নাঙ্গ পোষ্ট লিখার ইচ্ছা আছে।

ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট

090617-N-9610C-029

অনেক তো কাজ করলেন। এবার অন্যকে শিখানো শুরু করুন। হ্যা, ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট হতে পারে আপনার পরবর্তী অধ্যায়। তবে আপনার যদি একটা লম্বা অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে এই অধ্যায় থেকে দূরে থাকাই ভাল। অথবা সে ক্ষেত্রে আপনি শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক গুলোকে নিয়োগ দিতে পারেন। বাকি সব জায়গাগুলোর মতই এখানেও আপনাকে টিকে থাকতে হলে আপনার সেরাটাই দিতে হবে। কিন্তু অন্যান্য জায়গা গুলতে কোন ভুল হলে যত দ্রুত তা থেকে সড়ে এসে নতুন ভাবে শুরু করা যায়, ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট এ ব্যাপার টা একটু কষ্টসাধ্য। কেননা এইখানে একটা ওয়েব সাইট আপনার আইডেন্টিটি না, বরং সবাই আপনাকে লোকাল ভাবেও চিনবে।

এডসেন্স

এটা আয়  করার আরো একটি সম্ভাবনাময় মাধ্যম। এই কাজটি আপনি আপনার ফ্রিলান্সিং এর সাথে সাথেও করতে পারেন। অথবা ফ্রিল্যান্সিং ছেড়ে সম্পুর্ন ভাবে এখানেও মনোনিবেশ করতে পারেন। যেহেতু আপনি এসইও পারেন, সেহেতু আপনার শুধু বিনিয়োগ করতে হবে কন্টেন্ট তৈরি তে। আর যদি আপনার লিখার হাত ভাল থাকে তাহলে তো কথাই নেই। আর ওয়ার্ডপ্রেস এর যুগে চাইলে ডেভেলপার নিয়োগ না দিয়েও সাইট রেডি করে ফেলতে পারবেন। তবে একজন ভাল ডেভেলপার দিয়ে ভাল করে ডিজাইন করিয়ে নেয়াটা হবে ভাল সিদ্ধান্ত। আর তার চাইতেও বড় কথা আপনি এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং একই সাথে একই সাইট দিয়ে চালিয়ে যেতে পারবেন।

বই লিখুন (প্রিন্টেড এবং ইলেক্ট্রনিক ভার্শন) এবং বিক্রি করুন

আপনি চাইলেই আপনার ফ্রিল্যান্স এর অভিজ্ঞতা, সফলতা, পরামর্শ এই ধরনের বিষয় নিয়ে বই লিখতে পারেন। অথবা চাহিদা আছে এবং আপনার আগ্রহ আছে এমন যে কোন বিষয় এর উপর বই লিখতে পারেন এবং তা বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে রকমারি ডটকম এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বাংলাদেশ এর মার্কেট এর জন্য বই বিক্রি করতে পারবেন। আর ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট এর জন্য তো আমাজন রয়েছেই। আর বাজেট জনিত সমস্যা অথবা পরীক্ষামুলক ভাবে প্রথম বইটার শুধুমাত্র ইলেক্ট্রনিক ভারশন তৈরী করতে পারেন।

এছাড়াও আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর চাইতেও একটি চ্যালাঞ্জিং এবং কার্যকরি পেশা শুরু করতে পারেন। এমন কোন মাধ্যম যদি আমি উল্ল্যেখ না করে থাকি যা আমার পাঠক দের জন্য দরকারি হতে পারে, কমেণ্ট এর মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারেন।