fbpx

কাজের স্ট্রেস কমিয়ে রিফ্রেসড হবার ৮ টি সহজ এবং কার্যকরি উপায়

আমরা যারা অনলাইন কেন্দ্রিক পেশার সাথে সম্পৃক্ত তারা দিনের বেশির ভাগ সময় ভার্চুয়াল এক্টিভিটির সাথে সম্পৃক্ত থাকি। ফেসবুক, ইমেইল, মার্কেটিং, গ্রাফিক, কোডিং, স্কাইপ, সফটওয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি। বেপারটা এক অর্থে যেমন অনেক মজাদার তেমনি কিছুটা বিরক্তিকর। এমনকি সারাদিন অনলাইনে থাকাটা কখনো কখনো প্রোডাক্টিভিটিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। এছাড়াও টুডু লিষ্টের ভিতর থেকে অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারলেও নতুন কিছু, অথবা ক্রিয়েটিভ কিছু করা হয়ে উঠে না। অথবা ব্রেইন সেই সুযোগ টুকুও পায় না। তাই গত বছর থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কাজের মধ্যে ২-৪ ঘন্টার একটা বড় বিরতি নিব। যাতে বিরতির পর আবার নতুন করে শুরু করতে পারি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত কিছু রিফ্রেশমেন্ট আইডিয়া আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যা আপনাদের কাজের স্ট্রেসড কমিয়ে আবার নতুন ভাবে শুরু করতে সাহায্য করবে।

১) রিকশা ভ্রমন

ঢাকা শহরের হাজারো অশান্তির মধ্যে একটি শান্তির জায়গা হচ্ছে খোলামেলা অথবা হালকা জ্যাম এর রাস্তাতে রিকশা ভ্রমন, বেশি জ্যাম হলেও যে খুব একটা খারাপ লাগে তা না। তাই সারাদিনের কর্মব্যাস্ততার পরে একটু রিকশা দিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। ৫০ টাকা দূরত্বের যে কোন জায়গাতে রিকশাতে করে যাওয়া, এককাপ চা অথবা অন্য কিছু খাওয়া, এবং ফিরে আসা, সব মিলিয়ে ১-২ ঘন্টার একটা রিফ্রেসমেন্ট হয়ে যাবে। খাওয়ার মেন্যু, রাস্তার ট্রাফিক, দূরত্বের উপর একচুয়াল সময় নির্ভর করবে। তবে আপনার যদি অফিস শেষে অনেক জার্নি করে বাসায় আসতে হয় তাহলে আপনার জন্য এটা ভাল আইডিয়া না।

২) বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা বাজি এবং খাওয়া দাওয়া

Friends Funবন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল। রিফ্রেসমেন্টের জন্য সবচাইতে ভাল উপায় হচ্ছে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, আড্ডা দেয়ার সময় ভুলে যেতে হবে কোন ক্লায়েন্ট কি মেইল করেছে, কার কাজের কি অবস্থা। আড্ডা বাজির সময় এইগুলা নিয়ে ভাবা ভয়াহব অপরাধ। আড্ডা দেয়ার সময় ভাবতে হয় কিভাবে বন্ধুদের সাথে খোঁচাখুঁচিতে করা যায়। কিভাবে সবার খাবারের বিল একজনের উপর চাপিয়ে দেয়া যায়। এই একটা সম্পর্ক যেটা কখনই বয়সের সাথে পরিবর্তন হয় না। তাই কর্ম ক্ষেত্রের বাইরে একটা ভাল বন্ধু সার্কেল মেইন্টেইন করতে পারলে অনেক বেশি কর্ম স্পৃহা অর্জন করা যায়।

 

৩) ঘুম

“ঘুম হচ্ছে সবচাইতে ভাল ধ্যান।”
ডালাই লামা

আমরা যারা অফিস আওয়ার এর পর আবার রাত যেগে কাজ করি, অথবা আমাদের মধ্যে যাদের কোন অফিস আওয়ার নেই তাদের জন্য ঘুম একটা গুরুত্ব পুর্ন হাতিয়ার। একটা নির্দিষ্ট পরিমান কাজ করার পর ব্রেইন ততটা প্রোডাক্টিভ থাকেনা যতটা কাজের শুরুতে ছিল। তাই একটা হালকা ঘুম আবার নতুন ভাবে কাজ শুরু করতে সাহায্য করে থাকে।

৪) পরিবারের সাথে সময় কাটানো

Nahid Hasan

আপনার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে আপনি পারিবারিক ভাবে কতটুকু সুখি  তার উপর। তাই পরিবারের সাথে সময় কাটানোটা শুধু রিফ্রেসমেন্টের জন্য নয়, এমনিতেও অনেক গুরুত্বপুর্ন। তবে আমরা যারা কম্পিউটার জগতের মানুষ তারা সুযোগ পেলেই কম্পিউটার নিয়ে বসে যাই। তাই পুরোপুরি রিফ্রেসমেন্টের জন্য  আমরা যদি কম্পিউটার থেকে দূরে গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারি তাহলে সব চাইতে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে কেননা এটা আপনাকে কাজ থেকে সম্পুর্নরুপে দূরে থাকতে সহায়তা করবে।

৫) ব্যায়াম, খেলাধুলা

সবচাইতে ভাল রিফ্রেসমেন্টের জন্য ব্যায়াম এবং খেলাধুলাকে আমি সবচাইতে এগিয়ে রাখবো। কারন এই দুইটা যায়গাতেই আপনি কাজ নিয়ে ভাবার সময় পাবেননা। এছাড়াও সারাদিন বসে বসে কাজ করার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুসিয়ে নেয়া যাবে। কেননা স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল।

৬) গান অথবা মুভি

আমি ব্যাক্তগত ভাবে মুভিটাকে খুব একটা এগিয়ে রাখবো না, কেননা এতে চোখের রিফ্রেসমেন্ট হয় না। তারপরেও বন্ধুমহলে অথবা পরিচিত অন্য মহল গুলোতে মুভি দেখাটা রফ্রেসমেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে শুনেছি, আমার ক্ষেত্রে এটা খুব একটা কাজ করেনা। তবে চোখ বন্ধ করে অথবা হালকা আলোতে শুয়ে শুয়ে অথবা বসে বসে ঠান্ডা ধাচের গান শুনাটা আমার রিফ্রেসমেন্টের জন্য ভাল ভুমিকা পালন করে থাকে।

৭) ম্যাডিটেশন

আমি নিজে কখনো ম্যাডিটেশন করিনি। তবে খুব কাছের কিছু বড় ভাই, বন্ধু করেছেন। এবং তাদের ভাস্যমতে কন্সেন্ট্রেট গ্রো করার জন্য ম্যাডিটেশন খুবই গুরুত্বপুর্ন। তাই ম্যাডিটেশন আপনার একটি ভাল হাতিয়ার হতে পারে রিফ্রেশমেন্টের জন্য।

৮) ঘর গুছানো অথবা নিজস্ব শখ নিয়ে কাজ করা

এছাড়াও অনেকের অনেক রকমের শখ রয়েছে তা নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। যেমন পাখি পালা, গাছের পরিচর্যা, ঘর গুছানো এই কাজ গুলা আপনাকে আপনার ওয়ার্ক স্ট্রেস থেকে দূরে রাখবে। আপনার যদি রান্না বান্নার শখ থেকে থাকে, তাহলে ভাল ভাল খাবার রান্না করে আমাকে দাওয়াত দিতে পারেন 😛

আসলে আজ অফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে এসে কাজে বসলাম, বসেই নিজেকে খুব হালকা এবং এনারজাইজড মনে হচ্ছিল। তাই ভাবলাম এই বিষয়টি নিয়ে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেই। কিন্তু লিখতে লিখতে দেখলাম এটা এত বড় হয়ে গেছে যে এটাকে ব্লগ পোষ্ট হিসেবেই পোষ্ট করা যায়। তাই পোষ্ট করে দিলাম। আপনি কিভাবে আপনার কাজের স্ট্রেসড কমিয়ে থাকেন আমাদের সাথে শেয়ার করতে কমেন্ট করুন।