fbpx

পেওনিয়ার গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস

আমাজন, আপওয়ার্ক, ফাইভার, ইবে, গুগল, শাটারস্টক, উবার, এয়ার বিএনবি, এডোবি সবকিছুর মধ্যেই একটি কমন ব্যাপার আছে, সেটা হচ্ছে পেওনিয়ার। মজার না?

পেওনিয়ার দেশের বাইরে থেকে পেমেন্ট রিসিভ করে, সেই পেমেন্ট বৈধ উপায়ে দেশে আনার পুরো প্রসেসটাকে সহজ করে দিয়েছে। অনলাইনে বসেই রিসিভ করা যাচ্ছে আবার ২ কার্য দিবসের মধ্যে টাকা আমাদের লোকাল ব্যাংক এ নিয়ে আসা যাচ্ছে।

আমরা অনেকেই অনেক দিন ধরে পেওনিয়ার ব্যাবহার করছি, আবার অনেকেই নতুন। আবার অনেকেই শুধু মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা আনার ক্ষেত্রে ব্যাবহার করছে, কিন্তু বাকি সলিউশন গুলো সম্পর্কে অবগত নয়।

আজকের পোস্টটিতে আমি পেওনিয়ারের গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস নামে যে সলিউশনটি আছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

পেওনিয়ার গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিসঃ

পেওনিয়ারের মাধ্যমে একাধিক উপায়ে বিদেশের ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট আনা যায়, এর মধ্যে একটি হচ্ছে গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস। পেওনিয়ার প্রতিটি একাউন্ট হোল্ডারকে ৯ টি কালেকশন/রিসিভিং ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে থাকে। যা আমাদের ট্রেডিশনাল ব্যাংক একাউন্টের মতই। কিন্তু এই একাউন্ট শুধু মাত্র টাকা রিসিভ করতে পারে, পাঠাতে পারে না। তাই একে রিসিভিং ব্যাংক একাউন্টও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এই ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সহজেই পেমেন্ট নিতে পারছেন।

পেওনিয়ার যেসব দেশ এবং রিজিওনের ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে থাকে তা হলঃ

  • আমেরিকা
  • কানাডা
  • ইউরোপ
  • ইউনাইটেড কিংডম
  • অস্ট্রেলিয়া
  • মেক্সিকো
  • জাপান
  • চায়না
  • সিঙ্গাপুর

উদাহরন স্বরূপ, আপনার কোন আমেরিকান ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট করবে। আপনার যদি পেওনিয়ার একাউন্ট থাকে, তাহলে পেওনিয়ার আপনাকে ইতিমধ্যেই একটি আমেরিকান ব্যাংক একাউন্ট দিয়েছে। আপনি আপনার ক্লায়েনটকে আপনার ব্যাংক ডিটেইল দিলেই ক্লায়েন্ট তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে আপনাকে অনলাইনে আপনার পেমেন্ট ট্রান্সফার করে দিতে পারবে। ২/৩ কার্য দিবসের মধ্যেই সেই টাকা আপনি আপনার পেওনিয়ার একাউন্টে পেয়ে যাবেন।

এই ব্যাংক ডিটেইল গুলো কোথায় পাবেন?

আপনি আপনার পেওনিয়ার একাউন্টে লগিন করুন। তারপর রিসিভ অপশনে গিয়ে গ্লোবাল পেমেন্ট সার্ভিস অপশনটি ক্লিক করুন।

Global Payment Solution - Payoneer

তারপর যে দেশের পেমেন্ট সলিউশন ব্যাবহার করতে চান সেই দেশ সিলেক্ট করুন। তাহলে নিচে সেই দেশের আপনার জন্য সেটআপ করা ব্যাংকটি দেখাবে। সেখান থেকে ভিউ ডিটেইল এ ক্লিক করুন।

GPS - Payoneer

এবার আপনার সেই দেশের জন্য সেট করা ব্যাংক এর বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন, যেখানে আপনার একাউন্ট নাম্বার, রাউটার নাম্বার সহ আরো কিছু তথ্য দেয়া থাকবে। প্রতিটা দেশের জন্য কিছু আলাদা নিয়ম রয়েছে, এই নিয়মগুলো আপনি গাইডলাইন সেকশন থেকে দেখে নিতে পারবেন।

উদাহরন স্বরূপ, আমেরিকান কালেকশন একাউন্ট এর মাধ্যমে শুধু আপনি আমেরিকান বিজনেস একাউন্ট থেকেই পেমেন্ট নিতে পারবেন, কোন ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত একাউন্ট থেকে পেমেন্ট নেয়া যাবে না।

Collection Bank Account - Payoneer

এবার আপনি আপনার এই ব্যাংক একাউন্টের তথ্য ক্লায়েন্টকে দিলেই ক্লায়েন্ট তার অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে আপনাকে পেমেন্ট করে দিতে পারবে। এই সলিউশন ব্যাবহার করে এক ট্রান্সেকশনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পেমেন্ট নেয়া যাবে।

পেওনিয়ার আপনাকে বাই ডিফল্ট তিনটি ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে থাকে, বাকি গুলো রিকোয়েস্ট করে এক্টিভ করতে হয়। যেই তিনটি ব্যাংক একাউন্ট আপনি বাই ডিফল্ট পাবেন তা হচ্ছে,

  • আমেরিকা
  • ইউরোপ
  • ইউনাইটেড কিংডম

এর বাইরে যদি আপনার কোন ব্যাংক একাউন্ট লাগে, আপনি এই ফর্মটি ফিলয়াপ করে আমাকে জানাতে পারেন। আমি সাহায্য করার চেষ্টা করবো।

ভ্যারিফিকেশনঃ

পেওনিয়ার যেহেতু একটি গ্লোবাল পেমেন্ট সলিউশন এবং একটি রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠান, তাই পেওনিয়ার আপনার কাছ থেকে এডিশনাল তথ্য এবং ডকুমেন্ট চাইতে পারে। আর পেওনিয়ারের সলিউশন ব্যাবহার করতে চাইলে আপনাকে এই তথ্য গুলো অবশ্যই দিতে হবে। পেওনিয়ার মূলত নিচের তথ্য গুলো চেয়ে থাকে,

  • সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড
  • আপনার বিজনেস ডিটেইল

আইডি কার্ডঃ

আপনার একাউন্ট ফুল ফাংশনাল করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড দিয়ে একাউন্ট ভ্যারিফাই করতে হবে। পেওনিয়ার যে ডকুমেন্টগুলো গ্রহন করেঃ

  • স্মার্ট এনআইডি
  • ওল্ড এনআইডি (সে ক্ষেত্রে আপনাকে আলাদা করে কাস্টমার সাপোর্টে কথা বলে নিতে হবে)
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • পাসপোর্ট

কেউ যখন পেওনিয়ার একাউন্ট খুলে, তখন একাউন্ট খোলার সময় তাকে কিছু ইনফরমেশন দিতে হয়, এবং পরবর্তিতে সাবমিট করা ডকুমেন্টের সাথে আগের দেয়া তথ্যের পুরোপুরি মিল থাকতে হবে। অন্যথায় একাউন্ট সাস্পেন্ড হবার সম্ভাবনা থাকে।

ডকুমেন্ট সাবমিট করার পর আপনাকে আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

  • আপনার বিজনেস ডিটেইল
  • আপনার বিজনেস ইউআরএল

এখানে অনেকেই কনফিউজড থাকে – কিভাবে এই তথ্য গুলো দিব। তাদের জন্য নিচে কিছু গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করছি।

ফ্রীল্যান্সারঃ

আপনি যদি ফ্রীল্যান্সার হয়ে থাকেন, এবং শুধু মার্কেটপ্লেসেই কাজ করে থাকেন, তাহলে আপনি আপনার মার্কেট প্লেসের প্রোফাইল লিঙ্ক দিতে পারেন। মনে রাখবে হবে প্রোফাইল অবশ্যই একটিভ থাকতে হবে, এবং আপনার জব হিসটরি থাকতে হবে।

সার্ভিস প্রোভাইডিং প্রতিষ্ঠান অথবা ক্রস বর্ডার ইকমার্স এবং এফিলিয়েট বিজনেসঃ

আপনার ওয়েবসাইটের লিঙ্ক এবং আপনার সার্ভিস অথবা পন্য সম্পর্কে ছোট একটু বর্ণনা। আপনাকে প্রমান করতে হবে আপনি এই ওয়েবসাইটের মালিক।

  • এটা প্রমান করার জন্য আপনি নিচের যে কোন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
    এমন একটি পেইজের ইউআরএল (ওয়েব এড্রেস) শেয়ার করা যেখানে আপনার নাম দেখা যায়, যেমন এবাউট পেজ।
  • আপনার ওয়েবসাইটের হুইজ (whois.com) রিপোর্ট শেয়ার করা, যেখানে সাইটের কন্টাকট ডিটেইলে আপনার তথ্য দেয়া আছে।
  • সাইটের মধ্যে একটি কাস্টম টেক্সট ফাইল তৈরি করা, যেখানে লিখা থাকবে “Global Payment Service Verification”.

এই তথ্যগুলো দেয়ার জন্য আপনাকে সেটিং থেকে ভেরিফিকেশন সেন্টার অপশনে যেতে হবে। সেখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন কোন ধরনের ভেরিফিকেশন দরকার। এবং আপনার আগে কোন ভেরিফিকেশন হয়ে থাকলে তার হিস্টরিও দেখতে পাবেন।

Payoneer Verification

আপনি চাইলে আমার সাথে কথা বলতে পারেন। এপয়েন্টমেন্ট বুক করতে এখানে ক্লিক করুন

এছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড আরো টিপস জানতে আমার ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে পারেন