fbpx

আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন?

আমরা আসলে কোন একটা ঘটনাকে আমাদের অভিজ্ঞতার মত করেই চিন্তা করি এবং এ থেকে একটা মতামত দিয়ে থাকি। ধরেন, আপনি এক ডাক্তারের কাছে গেলেন, সেইদিন ডাক্তার আপনাকে খুব অল্প সময় নিয়ে দেখলেন। আপনি সবাইকে এটাই বলবেন যে ডাক্তার টাইম নিয়ে দেখে না। আবার আরেকজনকে হয়ত উনি অনেক টাইম নিয়ে দেখেছেন। তাই উনি সবাইকে এটাই বলবেন, এই ডাক্তার অনেক ভাল, টাইম নিয়ে দেখে।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রির বাইরে যারা আছেন তাদের মধ্যে একদল বিশ্বাস করেন, অনলাইন থেকে উপার্যন করা যায় না। আরেক দল বিশ্বাস করেন অনলাইনে বসলেই টাকা আর টাকা আসবে। আবার যারা এই সেক্টরে অনেক দিন ধরে কাজ করছেন তারা যানেন, যে দুইটার কোনটাই সত্যি না। এটাও অফলাইনের মতই একটা ইন্ডাস্ট্রি। এখানে অনেকেই ভাল করছেন কারন তারা স্কীল্ড, তারা আপ টু ডেট। আরেক গ্রুপ স্ট্রাগল করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে কারন তারা হয়তো ট্রেন্ড ধরতে পারছেন না অথবা আপ টু ডেট না।

যাই হোক, অনলাইন প্রফেশন সম্পর্কে ২০১৪ সালে একটা পোষ্ট লিখেছলাম, এটা পড়লে যারা অনলাইন প্রফেশনালনা তারা ক্লিয়ার হয়ে যাবেন মুলত অনলাইন প্রফেশনালরা কি করেন।

এখন মুল আলোচনাতে আসি। বর্তমান সময়ে অনলাইন আয় নিয়ে অনেক ধরনের কথা হচ্ছে, অনেকেই হয়ত কোন কোন কোর্স নিয়ে সমালোচনা করছেন। নতুন নতুন অনেক কোর্স বাজারে আসছেন। একটা ইন্ডাস্ট্রির গ্রোথের জন্য মেন্টরশিপ দরকার আছে। মেসির মত প্লেয়ারেরও কোচ দরকার হয়। কিন্তু সমস্যাটা বাজে তখনই যখন আমরা কোন কিছু না জেনে, না শুনে, না বুঝে কোন কোর্সে এনরোল হই। অথবা সেলিং বাড়ানোর জন্য কোর্স সেলার অতিরঞ্জিত কোন কিছু মেনশন করে ফেলেন 🙁

ফেয়ার এন্ড লাভলি মেখে ফেয়ার নেস বাড়ানো, আর আফ্রিকান কালো থেকে অস্ট্রেলিয়ান ফর্সা হয়ে যাওয়া এক জিনিশনা।

ধরেন আপনি দেখলেন আমার একটা নিচ সাইট তিন মাসেই র‍্যাংক করেছে, অথবা ভাল রিটার্ন দিচ্ছে। আপনার জন্যও কি ফরমুলাটা সেইম। আপনি ভুলে যাচ্ছেন, এই তিন মাসের পিছনে আমার ৭+ বছরের অনলাইন মার্কেটিং স্কিল এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপনার কিন্তু সেইটা নাই।

আবার ধরেন কেউ হয়ত একটা সাইট ৬০ হাজার ডলারে সেল করেছে, আপনার সাইটো কি কালকে সেইম দামে সেল হবে। তার শুরুর দিকের কত গুলা সাইট ভাংগারির দোকানে ফেলে রাখতে হইসে, ঐটা হয়ত আপনি চিন্তা করেন নাই।

যাই হোক, আজকের পোষ্টটা মুলত আপনাদেরকে একটা বাস্তব সম্যত আইডিয়া দেয়ার জন্য যে আপনি আসলে একজন নতুন প্রফেশনাল হিসেবে কেমন রিটার্ন আশা করতে পারেন।

নতুন এসইও প্রফেশনাল হিসেবে যদি সার্ভিস প্রোভাইড করতে যান

  • একজন নতুন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে হয়ত আপনি আওয়ারলি ১-৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। ইন্ডাস্ট্রি, কাজের ধরন, মার্কেটপ্লেসের হিসেবে তা ডিফার করবে। ওয়েব ডিজাইনার অথবা অন্য ইন্ডাস্ট্রির জন্য রেটটা একটু বেশি হলেও হতে পারে।
  • কাজ শূরু করার পর পর হয়ত অনেক স্ট্রাগল করতে হতে পারে, কাজ পাওয়া, ক্লায়েন্ট ধরে রাখা। হুট করে কাজ চলে যেতে পারে, তখন কাজ শূন্য হয়ে যেতে পারেন। কাজ সম্পন্ন করার জন্য টুলস, রিসোর্সে ইনভেস্ট করা লাগতে পারে।
  • একটা দুইটা বাজে ফিডব্যাকের কারনে কাজ পাওয়াই কঠিন হয়ে যেতে পারে।
  • গুগলের প্রতিটা আপডেট আপনার জন্য বিপদ সংকেত হিসেবে পরিনত হতে পারে, আপডেটের সাথে সাথে আপনার র‍্যাংক এবং ক্লায়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে।
  • লোকাল মার্কেটে জব করলে স্যালারি ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
  • স্কীল এবং রিসোর্স ডেভেলপ করার জন্য একটা পোর্শন ইনভেস্ট করা লাগতে পারে।
  • টুলস এর পিছনে ইনভেস্ট করা লাগতে পারে।

নতুন হিসেবে আমাজন এফিলিয়েট শুরু করলে

  • একজন আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রজেক্টের জন্য আপনার প্রায় ২-৩ হাজার ডলারের বাজেট থাকতে হবে। সাথে অনেক টাইম ইনভেস্ট করতে হবে। যাতে নলেজ গেইন করা যায়, রিসোর্স বাড়ানো যায় এবং কস্ট মিনিমাইজ করা যায়।
  • আপনার শুরুর ৩-৫ মাস পর্যন্ত আয় ০ ডলার থাকার সম্ভাবনা বেশি। তারপর র‍্যাংক আসা শুরু করলে ৮০-২০০ ডলার পর্যন্ত প্রতি মাসে আসতে পারে। তারপর মোটামুটি সব কিওয়ার্ড দিয়ে ১-২ নম্বর পসিশন এনসিউর করা গেলে হয়ত ৫০০+ আর্ন হতে পারে।
  • আপনার সাইট রেংক করার পরেই আপনি কম্পিটিটরদের নেগেটিভ এসইও এর চক্করে পরতে পারেন, আর র‍্যাংক ড্রপ মানে আবার আয় ০ হয়ে যাওয়া।
  • উপার্যন শুরু হবার পরেও আপনার রিইনভেস্ট করতে হবে নতুন কন্টেন্ট এবং এসইও সার্ভিস এর জন্য।
  • প্রথম প্রজেক্ট সফল হবেই তার নিশ্চয়তা নেই বরংচ প্রথম প্রজেক্ট ফেইল হবার সম্ভাবনাই বেশি।

মনে রাখতে হবে, সার্ভিস / প্রোডাক্ট বানানোটাই সব না, সেল লাগবে, সেল বাড়ানোর জন্য ট্রাফিক লাগবে, আর ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য ইনভেস্টমেন্ট, নলেজ এবং অভিজ্ঞতা লাগবে। তাই নিচ সাইট বানানো মানেই টাকা আসতেসে আর আসতেসে বেপারটা এমন না।

নতুন হিসেবে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শুরু করলে

  • সার্ভিস প্রোভাইড করতে গেলে এখানেও আপনার শুরুর দিকের আওয়ারলি রেট ১-৫ ডলারের মধ্যেই থাকবে। ইংরেজী ভাল না হলে কাজ পাওয়ার কঠিন হয়ে যাবে।
  • কাজ থাকবে, যাবে এরকম চলতেই থাকবে। তাই কন্সিসটেন্স আর্নিং এর সুযোগ নেই।
  • লোকাল জবের স্যালারি রেঞ্জ ৮-১৬ হাজার টাকা।

বাকি সব ইন্ডাস্ট্রির জন্যও ফর্মুলা অলমোস্ট সেইম। হালাল উপায়ে টাকা উপার্যন করার জন্য আপনার স্কীল দরকার হবে, সময় লাগবে, ফেইল করবেন। তাই কোন ইন্ডাস্ট্রিতে এন্ট্রি করার সময় একটু রিসার্চ করুন। এটা আপনাদের জন্যও যেমন ভাল, এক্সিসটিং প্রফেশনালদের জন্যও ভাল। কেননা আপনারা না জেনে মার্কেটে ঢুকে যেমন ঠকেন, তেমনি মার্কেটেরও বদনাম হয়। একজন এক্সিসটিং প্রফেশনাল হিসেবে তখন আমরাও সাফারার হই।

মনে রাখবেন, আমরা যখন বাইরের দেশের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করি, তখন আমরা ইন্ডিরেক্টলি বাংলাদেশকে রিপ্রেসেন্ট করি। একই ভাবে আপনি যখন অনলাইন প্রফেশনে ঢুকতে যাচ্ছেন, আপনিও অনলাইন কমিউনিটিকে রিপ্রেসেন্ট করছেন অফলাইন কমিউনিটির কাছে।

এইভাবে চলতে থাকলে মেন্টরশিপ শব্দটাই একটা স্ল্যাং ওয়ার্ড হয়ে যাবে। তাই প্লিস যারা কোর্স সেল করছেন, বাস্তব সম্যত কমিটমেন্ট করুন। আর যারা ইনভেস্ট করে কোর্স কিনছেন, রিয়েলিটি বুঝার চেষ্টা করুন। কারো সাথেই আমার ব্যাক্তি গত কোন সমস্যা নেই। অনেককে আমি চিনিও না। তবে একজন প্রফেশনাল হিসেবে আমার এই লিখাকে গঠন মুলক ভাবেই দেখার আহবান রইল।