বিজ্ঞাপন এবং আবেগ – পর্ব ২

Ads and Emotion

বিজ্ঞাপন কেন তৈরি করা হয়? যাতে মানুষা কে তা বার বার দেখিয়ে সেই ব্র্যান্ড, পন্য অথবা সার্ভিস সম্পর্কে অবহত করা যায়। মানুষকে ইনফ্লুয়েন্স করা যায়। যাতে পন্যের বিক্রি বৃদ্ধি পায়।

আবার আপনি যেই প্লাটফর্ম থেকেই বিজ্ঞাপন পাবলিশড করেন না কেন, প্রতিবার তা শো করানোর জন্য আপনাকে পে করতে হচ্ছে, সেটা ট্রেডিশনাল এবং ডিজিটাল দুই যায়গাতেই।

তারমানে যত বার আপনার বিজ্ঞাপন দেখানো হবে তত বার আপনার পে করতে হচ্ছে। এটা হচ্ছে সাধারন হিসেব। কিন্তু আপনার বিজ্ঞাপন যদি মানুষের ভাল লাগে, তাহলে তারা সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে কথা বলে। সেই বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করে। চায়ের টেবিলেও সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে আলাপ হয়। তারমানে আপনার পন্যের প্রচার তখন দর্শকরাই করে দেয়। এডিশনাল পেমেন্ট করতে হয় না। আর তাই বলা হয়ে থাকে কন্টেন্ট ইস কিং। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন কন্টেন্ট ইস কিংডম।

কিন্তু কথা হচ্ছে দর্শকরা এমন কেন করবে এবং কখন করবে?

আপনারা মনে করে দেখেন, আমি একটা কথা প্রায়ই বলি, আর তা হচ্ছে “It’s not about you, its’s about your customer”, আপনার বিজ্ঞাপন তখনই মানুষ শেয়ার করবে যখন মনে হবে আপনি তাদের কথা বলছেন। তাদের সুখ দুঃখ ভাল লাগা নিয়ে কথা বলছেন। তাদের সমস্যা এবং অপরচুনিটি নিয়ে কথা বলছেন। আপনার পন্যের কথা নয়।

বিজ্ঞাপন এবং আবেগ নিয়ে আমার প্রথম পর্বটা যদি পড়ে না থাকেন, তাহলেে এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি ইনবাউন্ড মার্কেটিং এবং আউটবাউন্ড মার্কেটিং সম্পর্কিত এই পোস্টটি পড়তে পারেন যা আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল বৃদ্ধিতে কাজে দিবে।

গত বাড়ের মত আজকেও আমি আপনাদের পাঁচটি বিজ্ঞাপন দেখাবো, যেই বিজ্ঞাপন গুলো ভাইরাল হয়েছে। আমাদের আবেগকে মাথায় রেখে বিজ্ঞাপন গুলো তৈরি করা হয়েছে।

১#

এম্বুলেন্সকে সাইড না দেয়া শুধু আমাদের দেশেই না, এই সাবকন্টিনেন্টের অনেক দেশেরই একটা বড় সমস্যা। মজার বেপার হচ্ছে বেশিরভাগ সময় আমরা নিজেরাই এই সমস্যা গুলো তৈরি করি। কখনো ভাবি আমি সাইড দিলে কি হবে, আরেকজনতো দিবে না। এই ভেবে আমিও সাইড দেই না। আবার কখনো ভাবি, আমি সাইড না দিলেও অন্য কেউ হয়ত দিবে। এই ভাবে ভাবতে ভাবতে আমরা নিজের অজান্তেই নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছি। মারুতি সুজুকি এই সমস্যাগুলোকে হাইলাইট করার জন্য যেটা করলো সেটা হচ্ছে অনেক গুলো সচেতনতা মুলক ভিডীও তৈরি করলো। আর সাথে একটি হ্যাসটেগ ব্যাবহার শুরু করলো #SafeRoadsWithMaruti, যা তাদের বিজ্ঞাপন শেয়ারিং এবং ব্যান্ড ইমেইজ দুইটাই বাড়িয়ে দিল।

২#

আমরা যারা প্রফেশনাল লাইফে আছি, তারা জানি, আমাদের অফিস / কর্মস্থল হচ্ছে আমাদের আরেকটা বাড়ি, আরেকটা জীবন। কলিগ, বস, সিনিয়র, জুনিয়র, দুপুরের খাবার, বিকেলের চা, অফিস থেকে বের হয়ে আড্ডা এবং সিংগাড়া খাওয়া। আবার বসের ঝাড়ি, কাজের ডেডলাইন মিস করা, প্রমোশন, এপ্রিসিয়েশন সবকিছুই প্রফেশনাল লাইফের অনেক গুরুত্ব পুর্ন একটা অংশ। এই যায়গাটাতেই কাজ করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। তারা এই যায়গাটাকে কেন্দ্র করেই একটি চমৎকার বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে যা তাদেরকে ভাইরাল হয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

৩#

একটু আগেই আমি বলেছিলাম, যে কর্ম ক্ষেত্র হচ্ছে আমাদের আরেকটা জীবন। তবে এই কর্ম ক্ষেত্রের ব্যাস্ততা অনেক সময় আমাদেরকে আমাদের আপনজনদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আমরা সময় দিতে পারি না। মোটামুটি প্রতিটা মা বৃদ্ধা অবস্থাতে তাদের সন্তানদের সান্যিধ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু সন্তানরা জেনে না জেনে, ইচ্ছাকৃত ভাবে অথবা অনিচ্ছাকৃত ভাবে মা কে দেয়া কমিটমেন্ট রক্ষা করতে পারে না। এটা মোটামুটি বেশির ভাগ ঘরেই ঘটছে। বাজাজ এই টপিকটার সাথেই তাদের ক্রিয়েটিভিট মিলিয়ে চমৎকার এই আবেগ ঘন কন্টেন্টটি তৈরি করেছে, যা তাদেরকে ভাইরাল হয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

৪#

এটাও মারুতু সুজুকির বিজ্ঞাপন, একই হ্যাশট্যাগ ব্যাবহার করে তৈরি করা আরেকটি নতুন বিজ্ঞাপন। এখানেও আমাদেরকে রিমাইন্ড করার চেষ্টা করা হয়েছে যে আমরা জেনে শুনেই যাতে একই রকম ভুল বার বার না করি, যা আমাদের লাইফের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অনেক ছোট ছোট, লাইফ থ্রেটেনিং না, এরকম বেপার গুলার জন্য যেই রকম সিরিয়াস থাকি, কিন্তু লাইফ থ্রেটেনিং অনেক কিছুতে থাকি উদাসিন। যেমন মটর সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট। তাদের এই বিজ্ঞাপনটাও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল।

৫#

এই বিজ্ঞাপনটি অবশ্য উপরের বিজ্ঞাপন গুলার চাইতে একটু আলাদা। এখানে তাদের পন্যের কথা বলা হয়েছে। তবে উপাস্থপনটা অসাধারন। এখানেও আমাদের নিত্য দিনের এক্টিভিটি গুলোই দেখানো হয়েছে। সাথে দেখানো হয়েছে রুটির চাহিদা। ভারতে রুটি এবং আলু, এই দুইটাই অনেক জনপ্রিয় খাবার। তাদের বিভিন্ন রকমের রুটি যেমন আছে তেমনি তারা মোটামুটি সব খাবারেই আলু খেয়ে থাকে।

এই বিজ্ঞাপন গুলো শেয়ার করার মুল উদ্যেশ্য হচ্ছে আপনি যাতে কন্টেন্ট নিয়ে ভাবতে পারেন, একজন ভাল ডিজিটাল মার্কেটার হবার জন্য কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট স্কীল ডেভেলপ করা গুরুত্ব পুর্ন। আর আমি চাই, আমার এই শেয়ার আপনাদেরকেও সাহায্য করুক। যাতে আমরা একসাথেই গ্রো করতে পারি।

আপনি আমার ফেসবুক গ্রুপে যদি জয়েন করে না থাকেন, তাহলে জয়েন করতে পারেন। সব ছোট ছোট ট্রিক গুলো ওখানেই শেয়ার করে থাকি।

আর আপনার যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে, তাহলে আমাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আমি তার উপর কন্টেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করবো।

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here