কোন কাজটা শেখা উচিৎ – সহজ খুবই সহজ

What to Learn

যখন আমাদের কাজ শেখার কথা আসে, আমরা কিছু সমস্যাতে ভুগি। কোন কাজ শেখা উচিৎ। কিভাবে শেখা উচিৎ। এই ছোট ছোট সমস্যা গুলোর কারনে অনেক সময় আমাদের আর কিছু শেখাই হয় না। তাই এই পোস্টে আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে আপনারা ৩০ মিনিটের চাইতেও কম সময়ে এই সমস্যা থেকে বের হতে পারেন।

আপনি চাইলে এই পোস্টের একটি অডীও ভার্শন এখান থেকে শুনে নিতে পারেন।

আর যদি আপনার ব্লগ পোস্ট পড়তেই বেশি ভাল লাগে তাহলে পড়তে থাকুন।

একটা ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আমরা কাজ করি, তখন আসলে আমরা অনেক কিছুই বুঝতে পারি, মনে হয় এটাতো খুব সহজ এবং সাধারন জিনিশ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নিউবি যারা আছেন, তাদের এই যায়গা গুলোতেই কনফিউশন হবে এটাই স্বাভাবিক। আমি যখন নতুন ছিলাম একই রকম সমস্যাতে আমিও পড়েছিলাম।

আমাদের আসলে কোন কাজটা শিখবো, এই যায়গাটাতে দুইটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

১) আমি যেই কাজটি করছি তার মার্কেট ডিমান্ড আছে কিনা? আমরা শুরুর দিকে আসলে তাই করতে চাই যা করতে আমাদের ভাল লাগে। অথবা আমার বন্ধু করে সফলতা পেয়েছে, তাই আমারও ওটা করতে হবে। এমন হতে পারে আপনার বন্ধু যখন সফলতা পেয়েছে তখন সেই কাজটার ডিমান্ড ছিল। কিন্তু এখন নেই। তাই আমাদের অবশ্যই খুজে বের করতে হবে মার্কেটে এখন কোন কাজের ডিমান্ড আছে।

২) আবার ডিমান্ড থাকা সব কাজই কিন্তু আমার জন্য নয়। অনেক কিছুই আছে যার ডিমান্ড আছে। কিন্তু আমি হয়ত অতটা ভাল করতে পারবো না। অথবা আমি হয়ত ঐ কাজ গুলো করে মজা পাবনা। আমার প্যাশনের যায়গাটাতে সেই কাজ গুলো নেই। তাই আমাদের মার্কেট ডিমান্ডের সাথে সাথে আমাদের ভাল লাগার দিকটাও দেখতে হবে।

এখন মার্কেট ডিমান্ড কিভাবে আইডেন্টিফাই করবেন?

১) মার্কেট প্লেস গুলোতে একটু চোখ বুলাতে হবে

ওয়েবে অনেক পপুলার মার্কেট প্লেস আছে, যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রীল্যান্সার, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি। সেই মার্কেট প্লেস গুলোতে একটু ভিজিট করুন। আপনি যেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাচ্ছেন সেই ক্যাটাগরিতে দেখুন কী ধরনের জব পোস্ট হচ্ছে, কোয়ান্টিটি, জবের নেচার।

এগুলো নোট ডাউন করে রাখুন। তাদের প্রাইসিং, ওয়ার্ক ভলিউম, আনুমানিক সেলারের সংখ্যা ইত্যাদি। যত বেশি ডাটা কালেক্ট করা যাবে, তত ভাল ভাবে আইডিয়া জেনারেট করে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

এখন এই ডাটা গুলো দেখে আমার উপরের শেয়ার করা দুইটা পার্ট মিলিয়ে শর্ট লিস্ট করুন কোন কাজ শেখা নিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

নিচে আমি ফাইভারের এসইও ক্যাটাগরির একটা স্ক্রীন শট শেয়ার করেছি।

Fiver SEO

এছাড়াও আপনি লোকাল মার্কেটের জন্য বিডী জবস টাইপের জব পোর্টাল সাইট গুলোতেও দেখতে পারেন, আপনার ইন্ডাস্ট্রি রিলেটেড কী পরিমান জব প্লেস হচ্ছে। তার ফেসিলিটি। তার রিকোয়ারমেন্ট। সেই রিকোয়ারমেন্ট থেকে আইডীয়া পাবেন আপনার কোন কাজটা শেখা উচিৎ। এই সব গুলোকেই একটা এক্সেল শিটে নোট ডাউন করে রাখুন।

২) এবার শর্ট লিস্টেড টাস্ক গুলো নিয়ে পরবর্তি প্লান শুরু করুন। কিভাবে শেখা যায়। এখন যেহেতু আপনি ধারনা রাখেন কী শিখতে চাচ্ছেন, তাই আপনি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। এখন আপনি আর অনেক ব্রড কোন যায়গাতে ঘুরপাক খাচ্ছেন না। আপনি অনেকটাই ন্যারো ডাউন করে নিয়ে আসছেন।

এখন আপনি গুগল, ইউটিউব করে বেসিক ধারনা নিতে পারেন। এক্সপার্ট কারো সাথে কথা বলে কাস্টমাইজড টিপস পেতে পারেন। পেইড কোর্স করে সময় বাঁচাতে পারেন। বই পড়া শুরু করতে পারেন। কারো মেন্টরশীপ সাপোর্ট নিয়ে শুরু করে দিতে পারেন।

৩) এবার কাজ করতে করতে এডিশনাল স্কীল নিয়ে ভাবতে পারেন, একই ফরমুলাতে নতুন নতুন স্কীল ডেভেলপ করবেন। মনে রাখবেন, আইটি ইন্ডাস্ট্রি সবচাইতে দুরুত পরিবর্তন হয়। তাই থেকে থাকার কোন সুযোগ নেই।

আপনারা চাইলে আমার এই পোস্টটি পড়ে দেখতে পারেন, আপনার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এর রেস্পন্সিবিলিটি কার?

Comments

comments

1 COMMENT

  1. নাহিদ ভাই,
    আপনার পোস্ট গুলা আমার খুবই ভালো লাগে। জাঝাকুমুল্লাহ। তবে বর্তমান এক পোস্ট এর মাঝে একটু বেশি অ্যাড দেখতে পাচ্ছি।

Comments are closed.