তিনটি ছোট গল্পঃ রাজা, পাথর এবং কাঠুরিয়া

a small story

আজ Freepik Bangladesh এর আয়জনে একটি মিটয়াপ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আমিও উক্ত অনুষ্ঠানের একজন Guest of Honor হিসেবে ইনভাইটেড ছিলাম। এই অনুষ্ঠানে একটি ছোট গল্প শেয়ার করেছিলাম, এবং বাসায় আসার পর কেন যেন এই গল্পটি আপনাদের সাথেও শেয়ার করতে ইচ্ছে করলো। তাই খুব টায়ার্ড থাকার পরেও লিখতে বসে পড়লাম।

গল্প ১ঃ

“কয়েকশ বছর আগের কথা। এক রাজা, তার রাজ্যের একটি ব্যাস্ততম সড়কের মধ্যে একটি বড় পাথর রেখে দিলেন। যা সবার চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল। রাজা পাথর রাখার পর একটু দূরে লুকিয়ে ছিলেন, এবং মানুষের রিয়েকশন দেখতে চাচ্ছিলেন। বেশির ভাগ মানুষ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাথর দেখে খুব বিরক্ত হলেন। রাজাকে গালমন্দ করলেন। এবং পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু কেউ পাথরটিকে মাঝ রাস্তা থেকে সড়িয়ে দেয়ার কোন চেষ্টা করলো না। এভাবে দিন গড়াতে থাকলো। রাজাও কিছুটা নিরাস হতে থাকলেন।

এমন সময় এক ফল বিক্রেতা ফল নিয়ে যাওয়ার সময় পাথরটি দেখলেন। সেও সবার মত বিরক্ত হলেন। কিন্তু সে ঠিক করলো পাথরটিকে সড়িয়ে সাইডে রাখার চেষ্টা করবে। যেমন চিন্তা তেমন কাজ শুরু। পাথরটি যেহেতু অনেক বড়, তাই খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু এত কষ্টের পরেও উনি শেষ পর্যন্ত পাথরটিকে সাইডে সড়াতে পেরেছেন। যখন ফেরত যাচ্ছেন, তখন হঠাৎ করে খেয়াল করলেন যে পাথরের নিচে একটি থলে পরে আছে। উনি থলেটা হাতে নিয়ে দেখলেন থলের মধ্যে অনেক স্বর্নের মোহর এবং একটি চিঠি। চিঠিটিতে লিখা ছিল, এই স্বর্নের মোহরগুলো তার জন্য যে কষ্ট করে এই পাথরটি সড়াবে।”

গল্পের সারমর্মঃ
আমাদের জীবনের প্রতিটা অবস্ট্রাকল আসলে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। অবস্ট্রাকলগুলো দেখে কেউ অন্যকে দোষারপ করতে থাকে, আর কেউ তা সমাধান করার চেষ্টা করে এবং সামনে এগিয়ে যায়।

যেহেতু কয়েকশ বছর আগে আমি ছিলাম না, তারমানে গল্পটি আমি নেট থেকে পেয়েছিলাম 🙂

মহান আল্লাহ তা’আলাও আমাদেরকে এমন ভাবে আমাদের কৃতকর্মের জন্য পুরস্কৃত করে থাকেন 🙂

গল্প ২ঃ

“এটাও কয়েকশ বছর আগের কথা। এক ভদ্রলোক কাজে যাচ্ছেন। পথে দেখলেন জংগলে এক কাঠুরিয়া একটি ধারহীন কড়াত দিয়ে গাছের ডাল কাটছিলেন। ওনার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। ভদ্রলোক কাজ শেষ করে ফেরার পথে আবারো সেই কাঠুরিয়ার সাথে দেখা হল। এবং সে একই ভাবে অনেক কষ্ট করে গাছ কাটছেন। এবার ভদ্রলোক কাঠুরিয়াকে বললেন ভাই, আপনি এত কষ্ট না করে কড়াতটাকে একটু ধার করিয়ে নিলেইতো পারেন।

জবাবে, কাঠুরিয়া বললেন ভাই, গাছ কেটেই টাইম পাই না, দুইটা ডাল কাটতে সাড়াদিন চলে যায়, ধার করবো কখন 🙁 ”

গল্পের সারমর্মঃ

সঠিক টুল ব্যাবহার করতে না পারলে আসলে প্রোডাক্টিভ কাজ করা সম্ভব না।

গল্প ৩ঃ

Electric_Chainsaw

একজন কাঠুরিয়া কুরাল দিয়ে অনেক কষ্ট করে গাছ কাটছিল। একজন ব্যাক্তি এটা দেখে কাঠুরিয়াকে বললো, আপনি কুরাল দিয়ে এত কষ্ট করে গাছ কাটছেন। খুব সহজেই ইলেক্ট্রিক চেইন কুরাল দিয়ে আপনি গাছ গুলো কেটে ফেলতে পারেন। তারপর সেই ব্যাক্তি তার বাসায় থাকা একটি ইলেক্ট্রিক চেইন কুরাল দিয়ে গেলেন সেই কাঠুরিয়াকে। তারপর তিনি তার কাজে চলে গেলেন।

কাজ শেষে যখন তিনি বাসায় ফিরছেন, তখন দেখলেন কাঠুরিয়া ইলেক্ট্রিক চেইন কুরাল দিয়েও রেগুলার কুরালের মত কোপ দিয়ে দিয়ে কাছ কাটার চেষ্টা করছেন। যার ফলে তার কষ্ট আরো বেশি হচ্ছে। তখন লোকটি তাকে দেখিয়ে দিলেন ইলেক্ট্রিক চেইন কুরাল দিয়ে কিভাবে খুব সহজের গাছ কেটে ফেলা যায়। কিভাবে এটা চালু করতে হয় এবং কিভাবে খুব সহজে এটা ব্যাবহার করে, কম কষ্টে গাছ কেটে ফেলা যায়।

গল্পের সারমর্মঃ

সঠিক টুল সঠিক ভাবে ব্যাবহার করতে না পারলে সমস্যা আরো বাড়বে।

নোটঃ গল্প ২ এবং ৩ কাওসার ভাই শেয়ার করেছিলেন। এবং আমি শিউর উনিও কয়েকশ বছর আগের ঘটনা দেখেননি, উনিও কারো কাছ থেকে শুনেছিলেন অথবা কোথাও পড়েছিলেন 😀

শুভ নববর্ষ 🙂

আমার ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন

Comments

comments

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here