বেঙ্গালুরু ডায়েরি – পর্ব ১

Bangalore Trip - Grow With Nahid

জীবনের প্রথম ভারত যাচ্ছি, মুল গন্তব্য বেঙ্গালুরু। ঘুড়তে না, কাজে যাচ্ছি। বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়ে থাকে। আগে মুলত এটাকে “বেঙ্গালোর” এভাবে উচ্চারন করা হলেও এখন উচ্চারন করা হয় “বেঙ্গালুরু”। যদিও কাজে যাচ্ছি কিন্তু কাজের ফাকে যে ঘুড়বো তা আর আলাদা করে না লিখলেও হবে। ভারত এর আগে আমার যাওয়া হয়নি, কেননা সবসময় আমার কাছে ভারতের ভিসা প্রসেসিং, লম্বা লাইন, এই বেপার গুলো পেইন দিত। ইস্ট এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের ভিসা পাবার জন্য আপনাকে হয়ত এম্বেসি ফেস করতে হবে না, ট্রাভেল এজেন্ট সবকিছু করে দিতে পারে, কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে আপনার স্ব-শরীরে গিয়ে আবেদন এবং ভিসা কালেক্ট করতে হবে। তবে ভিসা প্রসেসিং ফী অনেক কম, ৮০০ টাকা। এবং আপনি নিজেই জমা দিতে পারবেন। যাই হোক,ভারতের ভিসা প্রেসেসিং নিয়ে আমিই আপনাদের চাইতে কম জানি, আমার যত কনফিউশন ছিল, সব যায়গাতে ইনিশিয়াল সহায়তা করেছেন Shopnojatra Travel Group

ভারতের ভিসা এপ্লিকেশনের সময় আপনার পুরানো সব পাসপোর্ট সাথে নিতে হবে, যত গুলো আছে সবগুলো। আমি আমার অনেক পুরান একটি পাসপোর্ট নেইনি বলে আমাকে আবার এপ্লাই করতে হয়েছিল।

যাই হোক ভিসা আবেদনের সাত দিনের মধ্যেই ভিসা হয়ে গিয়েছে কোন ঝামেলা ছাড়াই। টিকেট কেনার পর্ব শেষ।

আমার যাত্রার পথ হচ্ছে ঢাকা টু কলকাতা এবং কলকাতা টু বেঙ্গালুরু। সকাল ৯:৪০ এ স্পাইস জেটে করে যাত্রা শুরু হবে। বাসা থেকে বের হলাম সকাল ৭ টায়। যেহেতু আমার বাসা এবং এয়ারপোর্ট দুইটা দুই মাথায়। এয়ারপোর্টে গেলাম, বোর্ডিং পাস, এবং ইমিগ্রেশন শেষ করে বিমানে উঠলাম। বিমানে উঠার আগে একটা সেলফি তুলে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম। ফ্লাইট টাইমের চাইতে দেড়ি করে বিমান ছেড়েছে, এই অভিজ্ঞতা অনেকবার হয়েছে, এমনকি গত ট্রিপেই ফিলিপিন থেকে আসার সময় ডিলের কারনে লাগেজ মিস করেছিলাম। কিন্তু মজার বেপার হচ্ছে আমি এই প্রথম ফ্লাই করলাম যেখানে বিমান তার নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট আগেই ফ্লাই করেছে।

স্পাইসজেট ছোট ড্যাস ৮ বিমান। কানাডাতে তৈরি। এই মডেলের একটা বিমান সেদিন মায়ানমারে বিধ্বস্ত হল। বিমানের মজার বিষয় ছিল, এই বিমানের ইঞ্জিন উপরের দিকে হওয়াতে আপনার জানালা হবে পাখার নিচে, মুলত বোয়িং এর বিমান গুলোতে জানালা পাখার উপরে থাকে। জানালা নিচে হওয়াতে এবং আমার সিট ঠিক পাখা বরাবর থাকায় বিমানের চাকার মুভমেন্ট এই প্রথম এত কাছ থেকে দেখতে পেরেছি।

৪০ মিনিটের মত লাগলো ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে। কলকাতা পৌছে ইমিগ্রেশন শেষ করে ব্যাগ নেয়ার জন্য যাচ্ছি, কলকাতা এয়ারপোর্টটা আমাদের এয়ারপোর্টের চাইতে বড়ই হবে, সাথে তারা অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের মতই, ইনডোর গাছ লাগিয়ে সাধ্যমত সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা করেছে। এরাইভাল টার্মিনালটাকে ভালই এবং গোছানো মনে হল।

ব্যাগ নেয়ার পর আমি আমার সাথে থাকা ১০০ ইউএস ডলার ভাঙ্গিয়ে নিলাম, এয়ারপোর্টে রেট কম দেয়, তারপরেও আমি আসলে কিছু ক্যাশ সাথে রাখতে বেটার ফীল করি। ১০০ ডলারে পেলাম ৫৮০০ রুপি। এবারের মজার বেপারটা হচ্ছে, আমি অন্য দেশে আছি, সাবকনসাস মাইন্ড থেকে আমি ইংরেজী বলছি, কিন্তু উনারা বলছেন বাংলা, বেপারটা মজার ছিল।

আমি আমার সাথে ভোডাফোন এবং এয়ারটেলের সিম নিয়ে গিয়েছিলাম। সিম দিয়ে সাহায্য করেছেন আমার এক বন্ধু এবং প্রিয় একজন ছাত্র। দুইজনকেই অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু সিম রিচার্জ করার কিছু খুজে পেলামনা কলকাতা এয়ারপোর্টে। আমি যখন ডোমেস্টিক টার্মিনালে করে বেঙ্গালুরু বোর্ডিং পাস নিচ্ছি, তখন কাউন্টারে যেই ভদ্রলোক ছিলেন, তাকে জিজ্ঞ্যাস করলাম, এই টার্মিনালে মোবাইল রিচার্জ করতে পারবো, এমন কোন ব্যাবস্থা আছে কিনা, উনি আমাকে বললেন, অনলাইন থেকে উনি করে দিতে পারবেন, তবে এক্সট্রা চার্জ লাগবে। পরক্ষনেই উনি বললেন আপনার তো এই মুহুর্তে দরকার নেই, কেননা এয়ারপোর্টেতো আপনি রিলায়েন্স জিও এর ফ্রী ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে পারবেন। ১ জিবি লিমিট। প্রসেস সিম্পল। ওয়াইফাই থেকে জিও সিলেক্ট করা, তারপর মোবাইল নাম্বার দেয়া, ওখানে একটা এসএমএস আসবে যেখানে ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড থাকবে। আমাকে আর আটকায় কে, নিয়ে নিলাম এক জিবি ফ্রী ইন্টারনেট। আমার ৩ ঘন্টার ট্রানসিট টাইমটাকে ইউটিলাইজ করার ব্যাবস্থা হয়ে গেল এবং চিন্তা করলাম, সিম রিচার্জ তাহলে বেঙ্গালুরে গিয়েই করবো। 

 

আমার জার্নির একটি অংশ শেষ হয়েছে, এবার গন্তব্য কলকাতা এয়ারপোর্ট (নেতাজি সুবাস চন্দ্র বোস ইন্টারনেশনাল এয়ারপোর্ট) এর ডোমেস্টিক টার্মিনাল থেকে বেঙ্গালুরু। সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। কিছু খাওয়া দরকার। একটি ক্যাফে পেয়ে গেলাম Cafeccino। অর্ডার করলাম Mayo Chicken Sandwich, সাথে দুধ চা। খাবারের মধ্যে, বিশেষ করে চা এর সাধটা একটু আলাদা হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু সেরকম কিছু মনে হয়নি।

ডোমেস্টিক টার্মিনালে বেশ কিছু কেনাকাটা করার ব্যাবস্থা আছে। একটু ঘুড়লাম, সময় কাটাতে হবে, ভাল লাগলে হয়ত কেনাও যায়, কিন্তু তেমন কিছু ভাল লাগেনি। তবে এয়ারপোর্টের ভেতরে বলে যেমন আকাশ চুম্বি দাম হবে ভেবেছিলাম, তেমনটা নয়।

দেখতে দেখতে আমার বোর্ডিং টাইম চলে আসলো, এয়ার ইন্ডিয়া।আমার জন্য নতুন এয়ার ওয়েস। তাই কিছুটা কৌতুহল ছিল, তাদের সার্ভিস কেমন হবে এটা নিয়ে। আমার আইল সিট। সিটের এরেঞ্জমেন্ট হচ্ছে ৩:৩। টিকেট কাটার সময় অথবা বোর্ডিং পাশ নেয়ার সময় আমি সবসময় চেষ্টা করি হয়ত আইল অথবা উইন্ডো সিট নিতে, এতে একটু রিল্যাক্স ভাবে বসা যায়। মাঝের সিট হলে (৩:৩) হাত রাখতে খুবই অসুবিধা হয়। ভাগ্য ভাল আমাদের মাঝের সিটটি ফাকা ছিল, যার ফলে আরো একটু বেশি আরাম করে বসার সুযোগ হল।

এর আগের দুই দিন এয়ার ইন্ডিয়ার সার্ভারে সমস্যা ছিল, যার ফলে তাদের সব ফ্লাইট ডিলে হয়েছে, কিছু বাতিল হয়েছে, তাই ভয়ে ছিলাম আমারটা ঠিক সময় ছাড়বে কিনা, কিন্তু ভাগ্য ভাল, ঠিক সময়েই ছেড়েছে। বিমান আকাশে উঠলো, আমিও একটু রেস্ট নেয়ার চেষ্টা করছি, খাবার চলে আসলো, ভেজ। পরোটা, ডাল, সবজি এবং ভাত। খাবার খুব একটা ভাল লাগেনি, পরোটাটা খেয়েছি, সাথে কিছু ফল ছিল তা খেলাম এবং সবার শেষে দই। তারপর ল্যাপটপ বের করে প্রেসেন্টেশন গুলোতে একটু চোখ বোলালাম, কিছু কারেকশন করলাম। তারপর চোখ বন্ধ করে একটু রেস্ট নেয়ার চেষ্টা, যাতে এনার্জি বাচিয়ে রেখে বেঙ্গালুরুতে খরচ করা যায়। কিন্তু দেখতে দেখতে আড়াই ঘন্টার জার্নিটা শেষ হয়ে আসলো। পৌছে গেলাম বেঙ্গালুরু ইন্টারনেশলান এয়ারপোর্টে। সুন্দর সাজানো গোছানো এয়ারপোর্ট। সবচাইতে মজার বেপার হচ্ছে ভারতে এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশে গেলে আপনি বিদেশের ফিলিংটাই পাবেন। ভাষা আলাদা, স্টাইল আলাদা, বর্ন আলাদা, শুধু চেহারার মধ্যে কিছুটা মিল আছে। এখানের মানুষ গুলোকে দেখলে আপনার মনে হবে আপনি তামিল/সাউথ ইন্ডিয়ান মুভির লাইভ ভার্শন দেখছেন। সাদা শার্ট, কিছুটা কালো মানুষ। কানে দুল, গোফ আছে।

ভালই লাগছিল। বেল্টের সামনে এসে অপেক্ষা করছি লাগেজের জন্য, এক সময় লাগেজ চলে এল। লাগেজ নিয়ে এক্সিটের দিকে যাচ্ছি, আর খুজছি সিম রিচার্জ করার দোকান। একটি দোকান পেলাম। ১৮০০ রুপিতে সিম বিক্রি করছে। আমি বললাম, আমার সিম আছে, আমার লোড করতে হবে এবং আমার মেইনলি ডাটা লাগবে। সে আমাকে একটি চমৎকার প্যাকেজ সাজেস্ট করলো, ২৫০ রুপি, পরবর্তি ২৮ দিন,আমি প্রতিদিন ২ জিবি করে ডাটা পাবো। আমার কাছে এটাই সবচাইতে বেস্ট সলিউশন মনে হল, ২৫০ রুপি মানে প্রায় ৩০০ টাকা, প্রতি দিন ২ জিবি করে ডাটা। আর কী লাগে। কিন্তু সমস্যা অন্য যায়গাতে, দোকানদার স্পস্ট বলে দিল, তার কাছে চেঞ্জ নেই, আমার ২৫০ রুপি ভাংতি দিতে হবে। কিন্তু আমার কাছে আছে ২০০০ রুপির নোট, এবং ৫০০ রুপির নোট। পাশের মানি এক্সচেইঞ্জে গিয়ে ভাংতি চাইলাম, প্রথমে দিতে চাইলো না, কিন্তু একটি রিকোয়েস্ট করাতে তার মন গলানো গেল।

মানি এক্সচেঞ্জ থেকে চেঞ্জ নিয়ে ২৬০ রুপি দিলাম, এটারো ভাংতি না থাকার কারনে ১০ রুপি বেশিই দিতে হল। তারপর আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম, উনি রিচার্জ করে দিল। বললো কিছুটা সময় লাগবে, আমিও বের হব। উবার কল দিব, কিন্তু পরক্ষনেই মনে হল, বাইরে যাওয়ার পর যদি নেট না পাই, আবার ঝামেলা হতে পারে, যেহেতু নেট এখনো চালু হয়নি, তাই বের হয়ে এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি সার্ভিস নিলাম। ওদের এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি সার্ভিস আছে, ইন্সটেন্ট নেয়া যায় যদি ডিস্টেন্স কম হয়, মোবাইল দিয়ে ওরা ভাড়া ট্রাক করে, সাদা রঙের ট্যাক্সি, এটাকে ওরা বলে মেগা ক্যাব এবং আরেকটা মেরু ক্যাবস। উবারের চাইতে ভাড়া একটু বেশি উঠবে।

তারপর মেগা ক্যাব নিয়ে হোটেলের উদ্যেশ্যে যাত্রা শুরু, এই ক্যাব শুধু এয়ারপোর্ট থেকেই চলে, এমনিতে বাইরে চলে না, তারমানে সে আমাকে নামিয়ে দিয়ে আবার খালি ফেরত আসবে, তাই ভাড়া একটু বেশি। আর যেহেতু এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি সার্ভিস তারমানে তুলনা মুলক ভাবে এটা নিরাপদ। নতুন শহর, প্রথম বার, ট্যাক্সি চলছে, আমি আশে পাশে দেখছি, চোখের প্রশান্তি বাড়ছে, কিছু যায়গা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের মতই, কিছু যায়গা দেখে মনে হচ্ছে বাহ, সুন্দর তো। সুন্দর অসুন্দরের চাইতেও বড় বেপার হচ্ছে নতুন কালচার, নতুন যায়গা, নতুন ধরনের মানুষ। এটাই এক্সাইটিং।

গাড়ি এগিয়ে চলছে হোটেলের দিকে, ছুটির দিন, কাল থেকে সবার অফিস শুরু হবে, আমারো মিটিং। ড্রাইভার বললেন, এই যায়গাটাতে অনেক জ্যাম হয়, আজ ছুটির দিন বলে এই পাশটা ফাকা। প্রায় ৩০ ভাগ রাস্তা ফ্লাই ওভারের উপরেই ছিল, এটা এয়ারপোর্ট থেকে শহড়ে যাবার রাস্তা। রাস্তায় চলছে অনেক বাইক, মেয়েরাও চালাচ্ছে, অনেক সুদর্শন, স্মার্ট ছেলেরাও স্কুটি চালাচ্ছে, অটো চলছে, চলছে বাস এবং ক্যাব। নেই রিকশা, এবং আমার কাছে মনে হল, রিকশা না থাকাটা একটা ভাল জিনিশ। আমাদের যখন রিকশা থাকবেনা, তখন আমরাও অভ্যস্ত হয়ে আব। এট লিস্ট এক কিলোমিটার দূরত্ব হয় আমরা হেটে যাব, অথবা উবার/অটো ডাকবো

হোটেলের দিকে যাচ্ছি, বিকেল বেলা, রাস্তাতে কিছুটা ট্রাফিক আছে কিন্তু খুব বেশি না, উইকেন্ড হওয়াতে ট্রাফিক একটু কম মনে হল। যদিও আমি যাচ্ছি যেই রাস্তা ধরে তা মুল শহড় থেকে কিছুটা দূরে। সোজা রাস্তা, বেশির ভাগ সময় আমি ফ্লাই ওভারের উপরেই থাকছি। ডানে বামে বিভিন্ন অফিস, আবাসিক বাসা দেখা যাচ্ছে। কিছু উচু উচু এপার্টমেন্ট, আবার কিছু আমাদের মতই বিল্ডিং, এবং আমাদের মতই কিছুটা কনজাস্টেড।

দেখতে দেখতে হোটেলের কাছে চলে আসলাম, হোটেলে ঢুকার জন্য একটি ছোট সেতুর মত আছে, যা শুধু হোটেলের জন্যই ব্যাবহার করা হয়। নাম ITC Bridge.

আমি যেই হোটেলে থাকছি, তার নামে ITC Windsor, এই হোটেলের বিশেষত্ব হচ্ছে এটার গঠন অনেকটা পুরাতন রাজ প্রাসাদ টাইপের, এখানে আধুনিকতার ছোয়ার চাইতে পুরানো ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পুরাপুরি সফল হয়েছে এটা হয়ত বলা যাবে না, অথবা ব্যাবসায়িক সার্থেই হয়ত মডার্ন সুবিধা গুলোকে বাদ দেয়া যায় নি।

হোটেলে যখন চলে আসলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা, হোটেলের বাইরে ধোয়া দেয়া হচ্ছে। প্রশ্ন করতেই জানা গেল এটা মশার জন্য দেয়া হচ্ছে।

হোটেলের প্রবেশ মুখেই একটি ১০০ বছরের পুরানো গাছ রয়েছে। হোটেল সিকিউরিটি এবং স্টাফদের ব্যাবহার যথেস্ট ভাল মনে হল।

রিসেপশনের কাজ শেষ করার পর আমার রুমের চাবি এবং ইন্টারনেট একসেস নিয়ে রুমের উদ্যেশ্যে রওয়া হলাম। হোটেলটি চার তলা, এবং আমি চার তলাতেই রুম পেয়েছি। চার তলাতে যাওয়ার পরেও সেই রাজকিয় ডেকোরেশন চোখে পড়লো, মোটামুটি সাইজের একটি লবি চার তলাতেও আছে। রুমে গেলাম, সন্ধ্যা ৭ টার মত বাজে, তারমানে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘন্টার জার্নি অবশেষে শেষ হল। ক্লান্ত ভাব রয়েছে, কিন্তু হোটেলের ভেতরের পরিবেশ দেখে ক্লান্তি কিছুটা হলেও কমে গিয়েছিল।

এখন আমার প্রথম কাজ হচ্ছে, মোবাইলে এবং ল্যাপটপে নেট কানেক্ট করা, মেইল চেক করা, বাসায় কথা বলা, এবং তারপর ফ্রেস হওয়া।

ফ্রেস হওয়ার পর পরবর্তি দুই দিনের জন্য কিছু কাজ এগিয়ে রাখলাম। এই হোটেলে সর্বমোট চারটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে, এর মধ্যে একটির নাম হচ্ছে Dakhsin, ডিসাইড করলাম রাতের খাবার এখানেই খাব। রেস্টুরেন্ট গ্রাউন্ড ফ্লোরে। রেস্টুরেন্টের ভেতরেও ট্রেডিশনাল একটি ছাপ রয়েছে। মেনু বই গুলাও একটু রাজকীয় ধরনের, ওদের মুল যে মেনু, তা কাঠের আলমাড়ির মত, দড়জার মত, খুললে মুল বই বেড় হয়। যেহেতু সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড নিয়ে খুব একটা ধারনা নেই, তাই চিন্তা করলাম ওদের থালি ট্রাই করে দেখি। তিন ধরনের থালি ছিল, Dakhsin Vegeterian Thali, Dakhsin Non Vegeterian Thali এবং Dakhsin Seafood Thali.

আমি সিফুড থালি নিলাম। আগেই বলে নেই, আমি যে খুব স্টাডি করে এই থালি নিয়েছি এমন না, এমনকি এই ধরনের পরিবেশনের সাথেও আমি খুব একটা পড়িচিত না, তারমানে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে নতুন কিছু যোগ হতে যাচ্ছে।

আগেই বলেছি তাদের পরিবেশন একটু আলাদা, স্টিলের এবং পিতলের থালা, ছোট ছোট বাটি, পানির গ্লাসটাও পিতলের।

প্রথমেই তারা আমাকে কিছু চাটনি দিল, সাথে একটি কলার বড়া, আরেকটি ডালের। তারপর আসলো পাপড়, এবং কিছু তেলে ভাজা পিঠা, যেগুলো অনেকটা চিপ্সের মত, আমরাও খাই বাংলাদেশে, এই পিঠাগুলোর নাম কী মনে নাই।

বড়া, এবং পাপড় চাটনি দিয়ে খেয়ে আমার পেট প্রায় ভড়ে গিয়েছে, তারপর আসলো একটি পড়টা, সাথে সামবার ( এক ধরনের ডাল এবং সবজী), সাথে চিংড়ি, আলু, আরো নতুন কিছু আইটেম, সব গুলো আইটেমি কিছুটা ঝাল এবং স্পাইসি।

তারপর আসলো ডোশা এবং কিছু চাটনি সম্ভবত, একটা নাড়িকেলের, একটা পুদিনা পাতার এবং একটি টমেটোর। সাউথ ইন্ডীয়া চাটনি এবং সাম্বার এর জন্য অনেক বিখ্যাত।

এটা শেষ হতে না হতেই আসলো বিডিয়ানি, ফির্নি এবং আরো কিছু খাবার, সবগুলোয়ার নাম জানিনা। বলে নেই, সব কিছুর পড়িমান অল্প করেই থাকে, আমরা যেমন অনেক বেশি পড়িমানে খাই, ওখানে আইটেম বেশী থাকলে কোয়ান্টিটি অনেক কম কম থাকে, তাই খাওয়া যায়।

খাওয়া শেষ করে রুমে বেক করলাম, এবার আরেকটু কাজ করার পালা। মনে হল, বাংলাদেশে বসে তো ইন্ডিয়ান চ্যানেল দেখতাম, মুভিও দেখতাম, এখনো মাঝে মাঝে তামিল মুভি দেখি। এখন ইন্ডিয়াতে বসে ইন্ডিয়ার মুভি দেখা যাক। তাই টিভি অন করলাম, আর বালিশে হেলান দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে প্রেসেন্টেশনটাতে টুকটাক এডিট করা শুরু করলাম। কাল সকাল সকাল উঠতে হবে, আমার ইভেন্ট শুরু হবে সকাল ৯ টায়। এখান থেকে বের হতে হবে সকাল ৮:৩০। তার আগে ব্রেকফাস্ট করতে হবে। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট, ট্রেডিশনাল ফুড ট্রাই করবো ডিসাইড করে রেখেছিলাম। কাজ করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম টের পাই নি, মাঝরাতে খুম ভাঙতেই টিভি বন্ধ করলাম, ল্যাপটপটি সড়িয়ে রাখলাম এবং আবার ঘুম দিলাম।

চলবে……

Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here