fbpx

তুলনা করার বাজে স্বভাবের সঠিক ব্যাবহার কিভাবে করবেন?

আমরা অনেক সময় আমাদের দুর্বলতার সাথে অন্যের সামর্থের তুলনা করে থাকি। ফলাফল, হতাশা এবং হিংসা তৈরি হওয়া। কারো কারো ক্ষেত্রে এটা এতই বেশি থাকে যে সে অন্যের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে করে।

একটা কেস স্টাডি দেই, তার আগে নিচের স্ক্রীনশটটা দেখে নিন।

Screenshot

এটা ahref থেকে নেয়া আমার Grow With Nahid ক্যাম্পেইনের একটা স্ক্রীনশট। কেউ একজন আমাকে ভালবেসে ৪৬ হাজার ব্যাকলিংক তৈরি করে দিয়েছে। আপনি যদি সেই ব্যাক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে ধন্যবাদ।

যাই হোক আমার মূল আলোচনা এই ব্যাকলিংক নিয়ে নয়। এমনকি সেই ব্যক্তিকে নিয়েও নয়। আমার আজকের পোস্ট হচ্ছে নিজের চিন্তাভাবনাকে কিভাবে আরো পরিণত করা যায় তা নিয়ে। আমরা যে যেখানে যেমন আছি, হয় কারো চেয়ে ভাল আছি, নয় কারো চেয়ে খারাপ আছি। অর্থাৎ হয় আপনি আমার চেয়ে অনেক উন্নতি করছেন অথবা আপনার ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে।

এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের দুঃসময়ে ব্যাপক আনন্দ লাভ করেন। কেউ হয়তো পারিবারিক অশান্তিতে আছেন অথবা তার ব্যবসাকে টেনে তুলতে পারছেন না অথবা তার ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে এমন দেখলে তৃপ্তি লাভ করেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এই ধরণের ব্যক্তিরা আপনার উন্নতিতে বেজায় মূর্ষে পড়েন, খুব কষ্ট পান।

এই সমস্যার একটা সহজ সমাধান আছে, আর তা হচ্ছে নিজের সাথে নিজের কম্পিটিশন করা। ডন ভাইয়ের একটা ভিডিও দেখেছিলাম। উনি বলেছেন, হ্যাপিনেস মানে হচ্ছে প্রোগ্রেস। কিশোর বয়সে কাউকে ভাল লাগলে তার ফোন নম্বর নেয়ার চেষ্টা করতাম। ফোন নম্বর পেলে ভাল লাগতো। কারন এটা ছিল প্রোগ্রেস। আবার প্রফেশনাল যায়গাতে ধরেন আপনার একটা লিড আপনার কাজের প্রাইসিং সম্পর্কে জানতে চাইলো। এটাও একটা প্রোগ্রেস। আপনার স্যালারি বাড়লো, আপনার ভাল লাগবে, এটাও একটা প্রোগ্রেস।

এখন ধরেন, আপনি দেখলেন আপনার এক বন্ধু গাড়ি কিনেছে। আপনি মনে মনে তুলনা করছেন, আহারে তার গাড়ি আছে আমার তো নেই। আপনি আসলে আপনার সম্পর্কে সবই জানেন, আপনার দুর্বলতা, আপনার সামর্থ, আপনার আর্থিক অবস্থা। কিন্তু আপনার বন্ধুর সম্পর্কে হয়তো ততটুকুই জানেন যতটুকু সে আপনাকে ডিরেক্টলি অথবা ইন্ডিরেক্টলি জানায়। প্রফেশনাল রিলেশনে ব্যাপারটা আরো বেশি কনফেডিনশিয়াল থাকে। তার গাড়ি আছে এটা হয়ত আপনি দেখলেন, কিন্তু ধরেন সে ব্যাংক লোনে জর্জরিত এটা কিন্তু আপনি জানেন না। কারন এটাকে হাইলাইট করা হয়নি। তার মানে আপনি আপনার দূর্বলতা (গাড়ি নেই) এটার সাথে তার হাইলাট করা সামর্থ (গাড়ি আছে), এটার তুলনা করলেন। কিন্তু ভিতরের অবস্থাটা জানেন না। হতাশাতে পতিত হলেন।

সাইকোলজিকালি আমরা আসলে তুলনা করার বৃত্ত থেকে বের হতে পারবো না। কিন্তু আমরা এটাকে ডাইভার্ট করতে পারি। নিজের সাথে নিজের তুলনা। প্রোগ্রেস হলে নিজেকে রিওয়ার্ড দেয়া।

একটু বিস্তারিত দেখাই কিভাবে স্টেপ বাই স্টেপ একটা প্লান করা যায়।

যেহেতু আমি নিজের সাথে নিজেকে তুলনা করবো, তাই প্রথমেই আমার কিছু যায়গাতে পরিস্কার ধারনা তৈরি করতে হবে। তাই একটা কাগজ কলম নিয়ে বসে যাই আর নিচের প্রশ্ন এবং এর উত্তরগুলো লিখে ফেলা যেতে পারে।

  • আমি পাঁচ বছর পর নিজেকে স্পেসিফিক কোথায় দেখতে চাই?
  • আমার গত বছরের এচিভমেন্ট কি?
  • বর্তমানে আমার অবস্থান কোথায়?
  • আর্থিকভাবে আমি কতটুকু স্ট্যাবল?
  • আমি যে সেক্টরে কাজ করি সেখানে আমি কতো দক্ষ?

এবার আপনার ইন্ডাস্ট্রির কিছু সমস্যা বের করুন। সমস্যা আইডেন্টিফাই করে তার সমাধান বের করতে পারা মানেই আপনার স্কীল ডেভেলপ হচ্ছে। আপনার আর্থিক সামর্থ বাড়ছে। আমি যদি এসইও ইন্ডাস্ট্রির উদাহরন দেই তাহলে এমন হতে পারে,

  • নেগেটিভ এসইও কিভাবে ওভারকাম করতে হয়?
  • আমি কি লিঙ্ক আউটরিচিং করতে পারবো?
  • আমি কি লোকাল এসইও করতে পারি?

এই ধরনের আরো অনেক প্রশ্ন আসতে পারে।

এইবার একটা না পারা প্রশ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন।

উদাহরস্বরূপঃ আমি কি লিঙ্ক আউটরিচিং করতে পারবো?

এবার এই টপিকের উপর পড়াশুনা শুরু করুন, জেনে নিন অন্যরা এই কাজটা কিভাবে করছে। এই তথ্যগুলো আপনার নিজের স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপ করতেসাহায্য করবে।

  • ৫ টা রিলেভেন্ট আর্টিকেল পড়া।
  • ৫ টা ভিডিও দেখা

এবার যা শিখলেন তার উপর একশন প্লান রেডি করুন।

  • রিলেভেন্ট ব্লগ খুজে বের করা
  • কন্টাক্ট ডিটেইল নোট করা।
  • রিসার্চ এবং ইমেইল রেডি করা
  • ফলোয়াপ প্লান
  • নেগোশিয়েশন প্লান
  • কন্টেন্ট লিখার জন্য রাইটার ম্যানেজ করা, ইত্যাদি।

যে কোন কঠিন কাজ ততক্ষন পর্যন্ত কঠিন থাকে যতক্ষন পর্যন্ত আমরা এটাকে স্টেপ বাই স্টেপ ব্রেক ডাউন না করি। এটাকে স্টেপ বাই স্টেপ ব্রেক ডাউন করলেই আপনার জন্য রাস্তাটা সহজ হয়ে যায়। একটা একটা করে স্টেপ কমপ্লিট হবে, আপনি একটু একটু করে আগে বাড়বেন। যেহেতু আপনার ইতিমধ্যেই ধারনা আছে আপনি পাঁচ বছর পর কোথায় থাকতে চান, তাই স্কীল ডেভেলপ, সেলিং, আর্নিং অপরচুনিটির মেসারমেন্ট ওভাবে সাজিয়ে নিন। কত দ্রুত কোন স্কীল ডেভেলপ করা উচিত, কতটুকু মার্কেট ধরা যেতে পারে ইত্যাদি।

তাই নিজের সাথে নিজের তুলনা করুন। গতকালের সাথে আজকের উন্নতির তুলনা করুন, এবং তাকে প্রোডাক্টিভ ভাবে ব্যাবহার করুন। অন্য মানুষ কি করছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই, আমরা আমাদের সততা বজায় রেখে পরিশ্রম করে যাই, স্কীল ডেভেলপ করতে থাকি সফলতা আসবেই। আপনার ভিতর থেকে যদি হিংসা দূর করতে না পারেন, আপনি কোটি টাকা কামালেও সুখ পাবেন না, বিলাসিতা পাবেন। আর নিজের মন থেকে যদি এই হিংসা দূর করতে পারেন, হাজার টাকা কামালেও আরামে ঘুমাতে পারবেন। ট্রাস্ট মি, ইট ওয়ার্কস।